১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:০৯:০১ অপরাহ্ন


ভাইরাল ছবির আড়ালের প্রকৃত সত্য: ইসরায়েল নয়, প্রথমে ফিলিস্তিন সফর করেছিলেন লিওনেল মেসি
ক্রীড়া প্রতিবেদক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-১৯ ২০:০৫:০৪
ভাইরাল ছবির আড়ালের প্রকৃত সত্য: ইসরায়েল নয়, প্রথমে ফিলিস্তিন সফর করেছিলেন লিওনেল মেসি লিওনেল মেসি I ছবি: সংগৃহীত


ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসিকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই একটি নির্দিষ্ট ছবি ভাইরাল হতে দেখা যায়, যেখানে তাঁকে জেরুজালেমের পশ্চিম প্রাচীরে (ওয়েস্টার্ন ওয়াল) দেখা যায়। এই ছবিটি প্রদর্শন করে অনেকেই দাবি করে থাকেন যে, আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তি কেবল ইসরায়েল সফর করেছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর নির্ভরযোগ্য তথ্য বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই দাবিটি মোটেও সম্পূর্ণ নয় এবং এটি একটি খণ্ডিত চিত্র মাত্র।

প্রকৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে স্পেনিশ ক্লাব বার্সেলোনার বিশেষ ‘পিস ট্যুর’ বা শান্তি সফরের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণে গিয়েছিলেন লিওনেল মেসি এবং তাঁর সতীর্থরা। সেই সফরের একেবারে শুরুতে তাঁরা প্রথমে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের (ওয়েস্ট ব্যাংক) ঐতিহাসিক বেথলেহেম শহরে যান। সেখানে তাঁরা ঐতিহ্যবাহী ‘চার্চ অব দ্য ন্যাটিভিটি’ পরিদর্শন করেন এবং পরবর্তীতে রামাল্লায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। একই দিনে হেব্রনের নিকটবর্তী দুরা শহরে ফিলিস্তিনি শিশুদের নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ ফুটবল প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা।

ফিলিস্তিন অঞ্চলের এই সফর শেষ করার পরদিন বার্সেলোনা দল জেরুজালেমে যায়। সেখানে মেসি এবং তাঁর সতীর্থরা ঐতিহাসিক ওয়েস্টার্ন ওয়াল বা পশ্চিম প্রাচীর পরিদর্শন করেন। এরপর তাঁরা ইসরায়েলের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেস এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই সফরের অংশ হিসেবে পরবর্তীতে তেল আবিবে ইসরায়েলি শিশুদের নিয়েও একটি ফুটবল ক্লিনিক বা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল।

মূলত বার্সেলোনা ক্লাবের এই সফরের মূল উদ্দেশ্যই ছিল খেলাধুলার মাধ্যমে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি শিশুদের মধ্যে শান্তি এবং সহাবস্থানের এক অনন্য বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। ক্লাবটি এই আয়োজনের নাম দিয়েছিল ‘Peace Tour’ বা শান্তি সফর। পুরো সফরে দুই পক্ষের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাথে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের পাশাপাশি উভয় অঞ্চলের শিশুদের নিয়ে পৃথক ফুটবল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুধু ইসরায়েল সফরের ছবি বা তথ্য প্রচার করে মেসির ওই সফরকে উপস্থাপন করা হলে তা সম্পূর্ণ অসম্পূর্ণ চিত্র প্রকাশ করে। যাচাইযোগ্য তথ্য বলছে, ২০১৩ সালের ওই সফরে মেসি প্রথমে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর সফর করেছিলেন এবং তার পরেই ইসরায়েলে গিয়েছিলেন।