১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:০৯:৪১ অপরাহ্ন


হাদি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রের ‘বিক্রেতা’ হেলালের দোষ স্বীকার
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-১৮ ১৭:৫০:৪৮
হাদি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রের ‘বিক্রেতা’ হেলালের দোষ স্বীকার ছবি: সংগৃহীত


ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের যোগানদাতা মাজেদুল হক ওরফে হেলাল আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার তিন দিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা তাকে আদালতে হাজির করলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন। স্বীকারোক্তি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত হেলাল চট্টগ্রামের ‘হামিদুল হক আর্মস এন্ড কোং’ নামক একটি বৈধ অস্ত্র বিক্রির দোকানের মালিক হওয়া সত্ত্বেও অবৈধভাবে এই হত্যাকাণ্ডে অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের আলোচিত মুখ শরীফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে তিনি দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে ডিবি পুলিশের হাত ঘুরে বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।

উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাপ্পি ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। তবে মামলার বাদী পক্ষ সেই অভিযোগপত্র নিয়ে আপত্তি তুলে আদালতে নারাজি আবেদন করেন। তাদের অভিযোগ ছিল যে মূল পরিকল্পনাকারী এবং পর্দার অন্তরালের অনেক তথ্য সেই তদন্তে উঠে আসেনি। আদালত বাদীর সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেয়। সিআইডির তদন্তে বেরিয়ে আসে যে চট্টগ্রামের একটি বৈধ দোকান থেকে এই হত্যাকাণ্ডের অস্ত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় এখন মাজেদুল হক হেলালের জবানবন্দি এই মামলার বিচারে একটি বড় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।