১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:৩০:৩৪ অপরাহ্ন


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নস্যাৎ করার সুযোগ ইসরায়েলকে দেওয়া যাবে না: এরদোয়ান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-০৫ ১৩:৩৮:২৮
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নস্যাৎ করার সুযোগ ইসরায়েলকে দেওয়া যাবে না: এরদোয়ান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান I ছবি: সংগৃহীত


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক বা চুক্তিকে ইসরায়েল যাতে কোনোভাবেই নস্যাৎ বা ‘ডিনামাইট’ মেরে উড়িয়ে দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। শনিবার (৪ জুলাই) ইস্তাম্বুল শহরে সফররত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ সভায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় এই আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, আঞ্চলিক দেশগুলোর ইচ্ছা এবং অবদান ছাড়া তৈরি হওয়া কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সমাধানই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি প্রশাসন ক্রমাগত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান ইসরায়েল সরকারকে ‘যুদ্ধ-আসক্ত’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি তীব্র হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘বর্তমান যুদ্ধ-আসক্ত ইসরায়েলি সরকারকে আমাদের ভূগোলকে আবারও বারুদ ও রক্তের গন্ধে ডুবিয়ে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে না।’ তুর্কি নেতা এর আগেও একাধিকবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা নস্যাৎ করার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি গাজা, লেবানন এবং সিরিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর চালানো অনবরত ও নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে কাতার এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কাতারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দলগুলোর মধ্যে একটি সফল পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা স্মারকের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী জানিয়েছেন যে, এই চুক্তির যেকোনো ধরনের লঙ্ঘন বা শর্ত ভঙ্গের ঘটনা সরাসরি জানাতে তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি বিশেষ ‘যোগাযোগ চ্যানেল’ বা মাধ্যম প্রতিষ্ঠা করবে। অবশ্য এই সমঝোতার শর্তের ব্যাখ্যা নিয়ে গত সপ্তাহেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর পাল্টা সামরিক হামলা চালিয়েছিল।