শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দ করা ৭ হাজার লিটার ডিজেলের মধ্য থেকে রহস্যজনকভাবে ২ হাজার ২০০ লিটার তেল উধাও হয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের হেফাজতে থাকা অবস্থায় বিপুল পরিমাণ এই জ্বালানি তেল কীভাবে গায়েব হলো, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও অভিযান
গত ৩১ মার্চ রাতে নড়িয়ার ভোজেশ্বর বাজারে অভিযান চালিয়ে একটি লরি ভর্তি ৭ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাকী দাস। জব্দ করার সময় তিনি নিজেই গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, ৭ হাজার লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, জব্দকৃত তেলবাহী লরিটি নড়িয়া থানায় সংরক্ষণের জন্য রাখা হয়।
নিলামে বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল
গত ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে জব্দকৃত তেলের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। শরীয়তপুরের ‘মেসার্স আ: জলিল ফিলিং স্টেশন’ ৭ লাখ টাকায় লরি ভর্তি তেল কিনে নেয়। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে তেল আনলোড করার সময়। পরিমাপ করে দেখা যায়, লরিতে ৭ হাজার লিটারের পরিবর্তে মাত্র ৪ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেল অবশিষ্ট আছে। অর্থাৎ, প্রশাসনের জিম্মায় থাকা অবস্থায় প্রায় ২ হাজার ২০০ লিটার তেল গায়েব হয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরবর্তীতে ঘাটতি তেলের সমপরিমাণ টাকা ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে ফেরত দেয় উপজেলা প্রশাসন।
দায় এড়ানোর চেষ্টা ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য
এই রহস্যজনক উধাও হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে দায়িত্বহীনতার পরিচয় মিলেছে:
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাকী দাস: জব্দ করার সময় ৭ হাজার লিটার বললেও এখন তিনি বলছেন, "আমরা যে পরিমাণ পেয়েছি, তাই নিলাম করেছি।" তেল উধাও হওয়ার বিষয়ে তার মন্তব্য— "এটা খুঁজতে আমি বাধ্য নই।"
ওসি মো. বাহার মিয়া: লরিটি থানায় রাখা হলেও তিনি দাবি করেন, অফিশিয়ালি লরিটি পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়নি। ভেতরে কতটুকু তেল ছিল সে সম্পর্কেও তিনি অবগত নন।
ইউএনও মো. আব্দুল কাইয়ুম খান: তিনি চুরির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, "নিলামের পর দেখা গেছে ২২০০ লিটার তেল কম। আমরা তদন্ত করছি, কোনো কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, জব্দ করার রাতেই প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ এই তেল স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের এমন উদাসীনতা ও অসংলগ্ন বক্তব্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছে।