১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:৫৪:৫০ অপরাহ্ন


আন্দোলনকারীদের শাস্তি দিলে পরিস্থিতির সমাধান হবে না: নরেন্দ্র মোদি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৮-০২ ১৫:০৮:৫৩
আন্দোলনকারীদের শাস্তি দিলে পরিস্থিতির সমাধান হবে না: নরেন্দ্র মোদি ছবি: সংগৃহীত


প্রশ্নপত্র ফাঁসের দাবিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর; কংগ্রেসের পাল্টা তোপ

     ভারতে জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বৈষম্যের প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা বা আদালতে দৌড়াদৌড়ি করিয়ে পরিস্থিতির কোনো সুরাহা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত জুলাই মাসে বিক্ষোভ চলাকালে যেসব শিক্ষার্থী তাঁর ও তাঁর প্রয়াত মায়ের বিরুদ্ধে কটূক্তি বা গালিগালাজ করেছিলেন, তাঁদের উদার মনে ক্ষমা করে দিতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।

মোদির তৃতীয় মেয়াদের অন্যতম বড় এই রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হয় গত মে ও জুলাই মাসে, যখন জাতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে প্রায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষায় বসতে বাধ্য করা হয়। এর ফলে দেশটির তরুণ সমাজের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।

মোদির ভিডিও বার্তা ও ক্ষমার আহ্বান

গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, “যে শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, তা কোনো সভ্য সমাজের উপযোগী নয়। তবে এরা আমাদের পথভ্রষ্ট সন্তান। তাদের সঠিক পথ দেখানোই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া, আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য করা কিংবা সমাজে হেয় করার মাধ্যমে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন আসবে না। তাই আমি তাদের ক্ষমা করে দিতে চাই।”

উল্লেখ্য, জুলাইয়ের আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) গত সোমবার অভিযোগ করে জানায়, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা ও গ্রেপ্তার বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন রাজ্যে এখনও শত শত শিক্ষার্থীকে বন্দি রাখা হয়েছে এবং হয়রানি করা হচ্ছে। সিজেপির ব্যাপক আন্দোলনের মুখেই সম্প্রতি দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

‘ক্ষমা নয়, ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত’: বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া

প্রধানমন্ত্রীর এই ক্ষমার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ভারতে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী মোদির এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ভারতের তরুণ সমাজের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমার প্রয়োজন নেই; বরং প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলার কারণে তাঁদের কাছে প্রধানমন্ত্রীরই ক্ষমা চাওয়া উচিত।

অন্যান্য বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেছেন, আসল সমস্যা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হওয়ার দায় এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে 'ভিকটিম কার্ড' খেলার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমার ঘোষণাকে কেবল 'রিল'-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে সব পুলিশি মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।