পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এক ঐতিহাসিক ও উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই চিরবৈরী এই দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের বৈরিতা ও সাম্প্রতিক চরম উত্তেজনার পর এই আলোচনাকে বিশ্ব রাজনীতির একটি বিশাল মাইলফলক হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে উভয় পক্ষের মধ্যে ১৪ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যা এই আলোচনার পথকে সুগম করেছে।
ইসলামাবাদের এই শান্তি আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধের জন্য একটি টেকসই পথ খুঁজে বের করা। পাকিস্তান এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় আয়োজক ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে, যা দুই দেশের মধ্যকার গভীর অবিশ্বাস দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপস্থিতিতে এই বৈঠক বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আলজাজিরার তথ্যমতে, এই আলোচনার সফলতার ওপর নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের স্থিতিশীলতা। বর্তমানে পুরো বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদের আলোচনার টেবিলের দিকে নিবদ্ধ। দুই দেশ শেষ পর্যন্ত কোনো দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।