১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:২৮:০২ অপরাহ্ন


ঈদযাত্রায় ভাড়া বেশির নজির পাওয়া যায়নি: সড়কমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১৬ ১৪:২০:২৫
ঈদযাত্রায় ভাড়া বেশির নজির পাওয়া যায়নি: সড়কমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত


আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রী পরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে এবং কোথাও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতু, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই সন্তোষ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী জানান যে, গত সাত দিনে কোথাও ভাড়ার অনিয়ম দেখা যায়নি, বরং যাত্রী কম থাকায় অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যেখানে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৭০০ টাকা, সেখানে অনেক পরিবহন যাত্রী টানতে ৬০০ টাকা বা তার কিছু বেশি ভাড়ায় যাত্রী সেবা দিচ্ছে।

সড়কমন্ত্রী জানান যে ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে এই পরিদর্শনে এসেছেন। সেখানে তিনি লক্ষ্য করেছেন যাত্রীরা শৃঙ্খলার সঙ্গে টিকিট কেটে বাসে উঠছেন এবং বাসগুলো নিয়মিতভাবে টার্মিনাল ছেড়ে যাচ্ছে। যাত্রীদের এই নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিআরটিএ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকেরা একযোগে কাজ করছেন। আগামীকাল থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় আজ বিকেল বা সন্ধ্যার পর থেকে যাত্রীদের চাপ ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। তবে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত বাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং টার্মিনালে বাস ঢোকা ও বের হওয়ার জন্য বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে যাতে মূল সড়কে কোনো যানজটের সৃষ্টি না হয়।

মহাখালী বাস টার্মিনাল প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, এখানে জায়গার স্বল্পতা থাকায় সব বাসকে একসঙ্গে পার্কিং করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই একটি বাস টার্মিনাল ছেড়ে যাওয়ার পর আরেকটি বাস ভেতরে ঢুকছে—এই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই মূল সড়কের চলাচল স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হবে। এছাড়া গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। কোনো পরিবহন মালিক যদি জ্বালানি না পাওয়ার অভিযোগ করেন, তবে তা যাচাই করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে কোনো ফিটনেসবিহীন যানবাহন রাজপথে চলতে দেওয়া হবে না। এজন্য মনিটরিং টিমগুলো গ্যারেজে গিয়েও তদারকি করছে এবং হাইওয়ে পুলিশসহ সব সংস্থা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সবশেষে মন্ত্রী বলেন যে মাত্র দুই থেকে আড়াই দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বে, যা যাতায়াত ব্যবস্থায় বিশাল এক চাপ তৈরি করে। তবে সরকারের সকল সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করার ফলে একটি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।