১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৬:৫৪:২৭ অপরাহ্ন


ইবি শিক্ষিকা হত্যার দায় স্বীকার করে লিখিত দিলেন আসামী
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-০৫ ১৫:৩০:০০
ইবি শিক্ষিকা হত্যার দায় স্বীকার করে লিখিত দিলেন আসামী ছবি: সংগৃহীত


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমান নিজের দোষ স্বীকার করে লিখিত জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের উপস্থিতিতে ফজলুর রহমান দুই পাতার একটি লিখিত স্টেটমেন্ট জমা দেন, যেখানে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিগত ক্ষোভের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

লিখিত জবানবন্দিতে ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, বিভাগীয় প্রধান আসমা সাদিয়া রুনা তাকে কর্মস্থল থেকে বদলি করা এবং তার বেতন বন্ধ করে দেওয়ার কারণে তিনি চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে মনে পুষে রাখা সেই আক্রোশ থেকেই তিনি এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। বর্তমানে ফজলুর রহমানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তিনি কথা বলতে না পারলেও ইশারায় সাড়া দিচ্ছেন এবং কলম দিয়ে লিখে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। জবানবন্দি গ্রহণের পর পুলিশ কর্মকর্তারা সেটি নিজেদের হেফাজতে নিয়েছেন এবং আসামির পরিবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি চালাচ্ছে।

এদিকে নিহতের পরিবার এই ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছে। নিহত শিক্ষিকার ভাসুর আবদুর রশিদ অভিযোগ করেছেন, কর্মস্থলে একজন শিক্ষিকাকে এভাবে খুন করা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং এর পেছনে প্রশাসনের কিছু ‘রাঘববোয়াল’ বা প্রভাবশালী ব্যক্তির উসকানি থাকতে পারে। পরিবার ইতোমধ্যে মামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে আসমা সাদিয়া রুনার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং দুপুর ২টার পর তাঁর মরদেহ কুষ্টিয়া পৌর ঈদগাহ মাঠে জানাজার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে।