১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৬:০৪:৫১ অপরাহ্ন


কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাহীর বাসা থেকে ১০ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ
জাতীয় ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৯-১৬ ১৫:৩৪:৫২
কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাহীর বাসা থেকে ১০ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তানভীর রাহী I ছবি: সংগৃহীত


সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমিপল্লীতে ভাড়া বাসা থেকে এসি-ফ্রিজ ও স্বর্ণালংকার লুটের দাবি; অভিযুক্ত স্থানীয় সাইদুল

        নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ভূমিপল্লীতে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তানভীর রাহীর ভাড়া বাসা থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের ব্যবহৃত আসবাবপত্র ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাহী গ্রামে চিকিৎসা শেষে নিজের ভাড়া বাসায় ফিরে পুরো ঘর শূন্য অবস্থায় দেখতে পান। পরবর্তীতে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় গিয়ে এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

স্থানীয় সাইদুল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে রাহী জানান, গত কয়েক দিন আগে ৫ থেকে ৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল নিয়ে এসে উক্ত ব্যক্তি বাসার প্রিমিয়াম এসি, রেফ্রিজারেটর, খাট, রান্নাঘরের চুলা, মূল্যবান স্বর্ণালংকার এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জোরপূর্বক লুটে নিয়ে যান।

ঘটনাটি ঘটে সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমিপল্লী আবাসিক এলাকার ‘সাহানারা মঞ্জিল’ নামের একটি বহুতল ভবনের ভাড়া বাসায়। প্রায় দুই মাস আগে বাসাটি ভাড়া নিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে করে বসবাস শুরু করেছিলেন রাহী। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রায় ২০ দিন আগে চিকিৎসা নিতে তিনি গ্রামের বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে বাসাটি পুরোপুরি তালাবদ্ধ ও ফাঁকা ছিল বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী তানভীর রাহী বলেন, "সাইদুল নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি দলবল নিয়ে এসে আমার ঘরের সব মালামাল লুট করে নিয়ে গেছেন। এর মধ্যে ঘরকন্যার প্রয়োজনীয় এসি, ফ্রিজ, খাট, দামি জুয়েলারিসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। মালামাল নিয়ে যাওয়ার কয়েক দিন আগে থেকেই সাইদুল আমাকে মোবাইল ফোনে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে এই বাসায় উঠেছিলাম। দুই মাসের ঘর ভাড়াও নিয়ম মেনে সময়মতো পরিশোধ করেছি। আমার স্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। অসুস্থতার কারণে আমি গ্রামে যাওয়ার পর তিনিও বাসায় ছিলেন না। সেই সুযোগেই এই ডাকাতি ও লুটের ঘটনাটি ঘটেছে।"

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাহানারা মঞ্জিল ভবনের কেয়ারটেকার মোহাম্মদ আপেল জানান, "সাইদুল নামের লোকটি হঠাৎ ৫-৬ জন লোক নিয়ে এসে আমাকে চাকরিচ্যুত করা ও প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরের তালা খুলে সব মালামাল ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়। আমি তাৎক্ষণিক বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানিয়েছিলাম।"

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, "ঘটনাটি নিয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। বাসা থেকে ঠিক কী কী মালামাল নেওয়া হয়েছে এবং কারা এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তা সরেজমিনে যাচাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে, দ্রুতই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত সাইদুলের সঙ্গে ভুক্তভোগীর পূর্ব কোনো লেনদেন বা শত্রুতা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"