১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৪:৫৮:২৪ অপরাহ্ন


বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান রাষ্ট্রপতির
জাতীয় ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-১০-০৬ ১৮:২৩:৫৮
বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান রাষ্ট্রপতির ছবি: সংগৃহীত


বঙ্গভবনে কানাডীয় হাইকমিশনার অজিত সিংয়ের সাক্ষাৎ; দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, শিক্ষা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে যৌথ সহযোগিতার ওপর জোর

      বাংলাদেশে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, নার্সিং ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে কানাডার বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধির জন্য দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে কানাডার গভর্নর জেনারেল লুইস আরবুর পক্ষ থেকে পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন বার্তা রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তর করেন হাইকমিশনার। রাষ্ট্রপতি এই অভিনন্দন বার্তার জন্য কানাডার গভর্নর জেনারেলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

কথোপকথনে রাষ্ট্রপতি গণতন্ত্র চর্চায় কানাডার সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কানাডার অব্যাহত রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘকাল ধরে দেশে সুস্থ গণতন্ত্র ও সংসদীয় রীতির অনুপস্থিতির কারণে বর্তমান সরকারকে নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে গণতন্ত্রের ভীত মজবুত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে।

সাক্ষাৎকালে হাইকমিশনার অজিত সিং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে জানান, বাংলাদেশ ও কানাডার বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ইতোমধ্যে চার বিলিয়ন কানাডীয় ডলার অতিক্রম করেছে এবং এই বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরের বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শিক্ষা, বিশেষ করে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা, নার্সিং ও চিকিৎসা খাতে কানাডার সহযোগিতা বৃদ্ধির অনুরোধ জানান। রোহিঙ্গা সংকটের প্রেক্ষাপটে হাইকমিশনার জানান, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় কানাডা সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের সাহায্য প্রদান করেছে।

রাষ্ট্রপতি কানাডার এই ধারাবাহিক মানবিক সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য কানাডা সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। এছাড়া এক লাখেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি কানাডার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং কানাডীয় হাইকমিশনের রাজনৈতিক কাউন্সেলর মার্কাস ডেভিস (Marcus Davies) উপস্থিত ছিলেন।