১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৬:৫৯:৪৩ অপরাহ্ন


বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অধিকাংশ অভিযোগই ভুল–বোঝাবুঝি: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-০৬ ২০:১৬:২৯
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অধিকাংশ অভিযোগই ভুল–বোঝাবুঝি: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত I ছবি: সংগৃহীত


দেশের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ওঠা অধিকাংশ অভিযোগই মূলত গ্রাহকদের ভুল–বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে এবং ইতিমধ্যে সেগুলোর সঠিক সমাধান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আজ সোমবার বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে বিদ্যুৎ বিভাগ আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, জনকল্যাণে গৃহীত ব্যবস্থা, মিটারের ভাড়া এবং জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, জুন মাসের বিল বৃদ্ধির পেছনে কেবল ট্যারিফ বা মূল্য বৃদ্ধি একমাত্র কারণ নয়, বরং তীব্র গরম ও বিভিন্ন কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়াও একটি বড় কারণ। আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়লে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চতর স্ল্যাবে চলে যায়, যার ফলে মোট বিল তুলনামূলকভাবে বেশি দেখায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে যে করণিক ভুল পাওয়া গেছে, সেগুলোর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যথাযথ প্রতিকার দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সচিব মিরানা মাহরুখ। তিনি জানান, যেসব বিদ্যুৎ বিলকে গ্রাহকেরা ‘ভূতুড়ে বিল’ বলে অভিযোগ করেছিলেন, সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যাচাই করা হয়েছে এবং অধিকাংশ বিলে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি পাওয়া যায়নি। মূলত কম বৃষ্টিপাত, ঈদুল আজহা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার কারণে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ও ব্যবহার ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও লক্ষ্য করা গেছে। বাসাবাড়িতে এসি, ফ্যান ও রেফ্রিজারেটরের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণেই মূলত বিলের এই তারতম্য ঘটেছে। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে সারা রাত বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা থাকছে। এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে জরুরি প্রয়োজনের পিকিং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো রাতে বেশি সচল রাখতে হচ্ছে এবং দিনে সেগুলোকে বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে দিনে কিছুটা বিদ্যুৎ–ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। তবে এই সংকট দ্রুতই কেটে যাবে এবং জুনের বাড়তি বিলের সুফল পিডিবি আগামী আগস্ট মাস থেকে পেতে শুরু করবে।

গ্রামাঞ্চলে বাড়তি লোডশেডিং ও বৈষম্য নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন যে, স্বাধীনতার এত বছর পরও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ না হওয়ায় নানাবিধ কারণে ঢাকাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। ফলে লোডশেডিংয়ের এই বৈষম্য দূর করা যাচ্ছে না, তবে বর্তমান বিএনপি সরকার কোনো বৈষম্য চায় না এবং এটি দূর করার জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সংকটের জন্য আগের সরকারের ভুল নীতিকে দায়ী করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই জর্জরিত খাতটি তাঁরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। বর্তমান সরকার পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে স্বাবলম্বী হতে চায় এবং এ লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারের মেয়াদ শেষে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে অন্তত ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এ বছর বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ধরা হয়েছে, যার সাথে ২০ শতাংশ রিজার্ভ ক্যাপাসিটি থাকতে পারে। অথচ আগের সরকারের ভুল নীতির কারণে প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরি করে বসিয়ে রাখা হয়েছে, যার জন্য বছরের পর বছর মোটা অঙ্কের কেন্দ্র ভাড়া (ক্যাপাসিটি চার্জ) দিতে হচ্ছে। এটি দেশের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে। রাষ্ট্রের স্বার্থ নিশ্চিত না করেই বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির সাথে এই বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিগুলো করা হয়েছিল। যেহেতু এগুলো সার্বভৌম চুক্তি, তাই চাইলেই বাতিল করা যায় না, তবে বর্তমানে চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ট্যারিফ কমানোর আলোচনা চলছে।

মিটারে অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, দেশের ছয়টি বিতরণ সংস্থা গ্রাহকদের এককালীন মূল্য পরিশোধ সাপেক্ষে অথবা কিস্তিতে মিটার সরবরাহ করে থাকে। যেসব গ্রাহক এককালীন মূল্য পরিশোধ করে মিটার নিয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো কিস্তি নেওয়া হয় না। কেবল যাঁরা কিস্তিতে মিটার সংযোগ গ্রহণ করেছেন, তাঁরাই মাসিক কিস্তি পরিশোধ করছেন। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গেল ফেজ মিটারের জন্য প্রতি মাসে ৪০ টাকা এবং থ্রি ফেজ মিটারের জন্য প্রতি মাসে ২৫০ টাকা হারে কিস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।