গত মে মাসে হঠাৎ করেই চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ কার্যনির্বাহী সংসদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে চলচ্চিত্রপাড়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ। তবে পরবর্তীতে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এই ঘোষণার দীর্ঘ ১৯ দিন পর আবারও সবাইকে চমকে দিয়ে এফডিসিতে হাজির হন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। তবে এবার নিজের জন্য নয়, বরং ‘আরমান-মুক্তি’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী অভিনেত্রী রুমানা ইসলাম মুক্তির পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গতকাল সোমবার এফডিসিতে আসেন বাপ্পারাজ। এ সময় প্রিয় অভিনেতাকে কাছে পেয়ে এফডিসিপাড়ায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাপ্পারাজ তাঁর এই আকস্মিক উপস্থিতি নিয়ে বলেন, "আমি নিজে প্রার্থী না হলেও আমার গড়া প্যানেলের মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসেছি। মুক্তিকে আমি আগেই জানিয়ে রেখেছিলাম যে তোমাদের সঙ্গে সবসময় আছি। তাই আরমান-মুক্তি প্যানেলের মনোনয়নপত্র জমা দিতে এফডিসিতে আসা। ওদের জন্য আমার সবসময় শুভকামনা থাকবে।" উল্লেখ্য, শুরুতে এই প্যানেল থেকে বাপ্পারাজেরই সভাপতি পদে নির্বাচন করার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নির্বাচন করে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারার আশঙ্কায় তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। বাপ্পারাজকে সহশিল্পী হিসেবে পাশে পেয়ে অভিভূত অভিনেত্রী রুমানা ইসলাম মুক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিখেছেন, "শিল্পী সমিতির নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দিলাম, আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের জন্য আজকে শিল্পী সমিতিতে এসেছেন বাপ্পারাজ ভাই। ভাইকে অনেক ধন্যবাদ। তিনি আমাদের সঙ্গে আরমান-মুক্তি প্যানেলের মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।"
শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরুতে সভাপতি পদে বাপ্পারাজের নাম ঘোষণার পর সাধারণ শিল্পীদের মাঝে নতুন এক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে তাঁর প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মুক্তি ছিলেন সবচেয়ে আশাবাদী ও উচ্ছ্বসিত। তবে বাপ্পারাজ নিজে সরাসরি ভোটের মাঠে না থাকায় নির্বাচনের সমীকরণ অনেকটাই পাল্টে যেতে পারে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। আগামী ৩ জুলাই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের এই বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে এফডিসিপাড়ায় ব্যাপক নির্বাচনী হাওয়া বইছে। এবার নির্বাচনে মূলত দুটি প্যানেল বেশ আলোচনায় রয়েছে। আরমান-মুক্তি প্যানেলের বিপরীতে অন্য প্যানেলটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শিবা শানু ও জয় চৌধুরী। তাঁরাও আরমান-মুক্তি প্যানেলের বিপরীতে নির্বাচনের মাঠে বেশ সরব রয়েছেন।