১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:৪০:২৮ অপরাহ্ন


রেল ভ্রমণ নিরাপদ করতে সরকারের মেগা উদ্যোগ!
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৬ ১৯:৫৩:২৩
রেল ভ্রমণ নিরাপদ করতে সরকারের মেগা উদ্যোগ!


সারাদেশে জরাজীর্ণ রেললাইন এবং নিম্নমানের রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি দূর করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, রেল ভ্রমণকে নিরাপদ ও আরামদায়ক করতে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে দুটি বড় ধরণের পুনর্বাসন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে রেলখাতের আধুনিকায়নের রোডম্যাপ তুলে ধরেন তিনি।

পূর্বাঞ্চল রেললাইন: দরপত্র মূল্যায়ন শেষ পর্যায়ে

মন্ত্রী জানান, দেশের পূর্বাঞ্চলের রেললাইন সংস্কার ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন:

  • ইতিমধ্যে দুটি প্যাকেজের আওতায় আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

  • গত ৮ এপ্রিল দরপত্র উন্মুক্ত করা হয়েছে।

  • বর্তমানে কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মূল্যায়ন শেষ হওয়া মাত্রই ঠিকাদার নিয়োগ করে মাঠ পর্যায়ে সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

পশ্চিমাঞ্চল রেললাইন: একনেক অনুমোদনের অপেক্ষায়

শুধু পূর্বাঞ্চল নয়, পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও সমান্তরাল পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। মন্ত্রী জানান, এ লক্ষ্যে ‘পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন’ শীর্ষক একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি বর্তমানে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া মাত্রই এই প্রকল্পের কাজও শুরু হবে।

রেলখাতে নতুন যুগের প্রত্যাশা

শেখ রবিউল আলম বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে রেলপথের নাজুক অবস্থা রেল চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, সংস্কারের ফলে যাত্রীরা আগের চেয়ে দ্রুত এবং স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের এই সময়োপযোগী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রেলখাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর হবে এবং একটি আধুনিক ও নিরাপদ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।