১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:২৭:৫১ অপরাহ্ন


পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-১০-০৬ ১৭:১৫:২১
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন বেলজীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী ও গবেষক ফ্রান্সিস হালজেন I ছবি: সংগৃহীত


অ্যান্টার্কটিকার আইসকিউব প্রজেক্টে উচ্চশক্তির মহাজাগতিক নিউট্রিনো আবিষ্কার ও অবদানের স্বীকৃতি; এককভাবে পেলেন ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা

      কণা পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের দিগন্ত উন্মোচনকারী যুগান্তকারী গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে মর্যাদাপূর্ণ নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন বেলজীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী ও গবেষক ফ্রান্সিস হালজেন। বরফাচ্ছাদিত মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’ (IceCube Neutrino Observatory)-তে নির্ণায়ক নেতৃত্ব প্রদান এবং উচ্চশক্তির মহাজাগতিক নিউট্রিনো কণা শনাক্তকরণের অসামান্য সাফল্যের জন্য তাঁকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমে অবস্থিত রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল বিজয়ী হিসেবে অধ্যাপক ফ্রান্সিস হালজেনের নাম ঘোষণা করে।

অধ্যাপক হালজেন যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও বিশিষ্ট গবেষক। বেলজিয়ামে জন্মগ্রহণকারী এই বিজ্ঞানী ১৯৭২ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন। তিনি মূলত কণা পদার্থবিজ্ঞান (Particle Physics), জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান (Astrophysics) এবং মহাকাশবিজ্ঞানের সমন্বয়ে গঠিত জটিল বৈজ্ঞানিক প্রাঙ্গণে কাজ করছেন।

ফ্রান্সিস হালজেন অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরির প্রধান গবেষক ও মূল স্থপতি। ১৯৮০-এর দশকের শেষভাগে তাঁর একক দূরদর্শী চিন্তাভাবনায় এই সুবিশাল ও জটিল প্রজেক্টটির সূচনা হয়েছিল। অ্যান্টার্কটিকার বরফের উপরিভাগের প্রায় এক ঘনকিলোমিটার গভীর এলাকাকে বিশাল সেন্সর যুক্ত ডিটেক্টরে রূপান্তর করে এই অভূতপূর্ব পর্যবেক্ষণাগারটি গড়ে তোলা হয়। এই আইসকিউবের বিশাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেই প্রথমবার মহাবিশ্বের সুদূর দূরত্ব থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

পদার্থবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নিউট্রিনো হলো কোনো প্রকার বৈদ্যুতিক আধানহীন (charge-less) এবং প্রায় ভরহীন মৌলিক কণা। আলোর গতির সমান দ্রুতিতে ছুটতে পারা এই রহস্যময় কণা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোটি কোটি আলোকবর্ষ পথ অনায়াসে পাড়ি দিয়ে কোনো বস্তুদ্বারা বাধাপ্রাপ্ত না হয়ে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে। ফলে দূরবর্তী গ্যালাক্সি, কৃষ্ণগহ্বর ও নক্ষত্রমণ্ডলী থেকে নির্গত মহাজাগতিক তথ্য বিনিময়ে নিউট্রিনোর ভূমিকা অনন্য।

আইসকিউবের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে সক্রিয় ছায়াপথের (Active Galaxies) কেন্দ্রে অবস্থিত অতিভারী কৃষ্ণগহ্বরের (Supermassive Black Hole) আশপাশ থেকে অনবরত উচ্চশক্তির নিউট্রিনো নির্গমনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই অবিস্মরণীয় তথ্য আবিষ্কার মহাজাগতিক রশ্মি বা ‘কসমিক রে’র সুনির্দিষ্ট উৎস খোঁজার শতবর্ষী জটিল বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের নিখুঁত সমাধান দিতে সক্ষম হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারের মোট অর্থমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (Swedish Krona)। এবার যৌথভাবে নয়, বরং এককভাবে এই পুরস্কার লাভ করলেন ড. ফ্রান্সিস হালজেন।

এর মাধ্যমে চলতি বছরের নোবেল বিজয়ী ঘোষণার দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন হলো। এর আগে গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) চিকিৎসা বা শারীরবিদ্যায় নোবেল পান কার্ল ডাইসেরথ, পিটার হেগেমান ও গেয়র্গ নাগেল। আগামী দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হবে।