১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:৩২:৪৬ অপরাহ্ন


স্বামীকে নিয়ে কী লিখলেন দীপ্তি চৌধুরী, যা মুহূর্তেই নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হলো?
বিনোদন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৬-০৯ ১৭:২৯:৪০
স্বামীকে নিয়ে কী লিখলেন দীপ্তি চৌধুরী, যা মুহূর্তেই নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হলো? স্বামী মুশতাক ইবনে আইয়ুবের সঙ্গে দীপ্তি চৌধুরীছবি : দীপ্তির ফেসবুক থেকে


চ্যানেল আইয়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘টু দ্য পয়েন্ট’ ও ‘স্ট্রেইট কাট’ সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শকের কাছে পরিচিত মুখ দীপ্তি চৌধুরী বিয়ের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। তাঁর বিয়ের খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর ভক্ত-অনুরাগীদের শুভেচ্ছার পাশাপাশি অনলাইনে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনাও লক্ষ্য করা গেছে। তবে সেই সব আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেও নিজের জীবনের নতুন অধ্যায় নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বাস ও গভীর আবেগ প্রকাশ করেছেন এই জনপ্রিয় উপস্থাপিকা। সম্প্রতি রাজধানীর বাংলামোটরের একটি রেস্তোরাঁয় সম্পূর্ণ পারিবারিক আয়োজনে দুই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে দীপ্তি চৌধুরীর আক্দ সম্পন্ন হয়। তাঁর স্বামী মুশতাক ইবনে আইয়ুব পেশায় একজন শিক্ষক ও গবেষক, যিনি যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর বিখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

বিয়ের খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সামাজিকমাধ্যমে দীপ্তির ব্যক্তিগত জীবন, বয়স, পেশাগত পরিচয় এবং বিশেষ করে তাঁর স্বামীকে ঘিরে নেটিজেনদের একাংশ অযাচিত কৌতূহল ও নানা মন্তব্য করতে শুরু করেন। তবে এসব নেতিবাচক বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা জবাব না দিয়ে দীপ্তি নিজের সুন্দর অনুভূতি প্রকাশের পথই বেছে নিয়েছেন। ফেসবুকে স্বামীকে নিয়ে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে দীপ্তি লিখেছেন, ‘যাকে না পাওয়া ছিল একমাত্র আফসোস, আল্লাহ তাঁকে জীবনসঙ্গী হিসেবে উপহার দিয়েছেন। আল্লাহ মহান!’ মাত্র এই একটি বাক্যেই তিনি তাঁর অনুভূতির গভীরতা প্রকাশ করেছেন। একই পোস্টে তিনি আরও যুক্ত করেন, ‘তিনি আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দর হৃদয়ের মানুষ। তাঁর প্রতি ভালোবাসার সঙ্গে জড়িয়ে আছে গভীর শ্রদ্ধা। চলুন, ভদ্রলোক, আমরা আমাদের এই নতুন যাত্রা শুরু করি।’

দীপ্তির এই ব্যতিক্রমী লেখার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই পোস্টটিতে আড়াই লাখের বেশি রিয়্যাকশন এসেছে, ২৫ হাজারেরও বেশি মন্তব্য করা হয়েছে এবং শেয়ার হয়েছে প্রায় দেড় হাজারের কাছাকাছি। নেটিজেনদের অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, কেবল অন্ধ ভালোবাসার চেয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে জীবনসঙ্গীকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার এই ভাষা সত্যিই ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয়। এদিকে, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর পরই দীপ্তি পুনরায় তাঁর পেশাগত ব্যস্ততায় ফিরে গেছেন এবং অনুষ্ঠান রেকর্ডিং ও উপস্থাপনার কাজ আগের মতোই সামলাচ্ছেন। এর আগে নিজের গায়েহলুদ অনুষ্ঠানের কিছু চমৎকার ছবি প্রকাশ করেও তিনি বেশ আলোচনায় এসেছিলেন, যেখানে নিজেকে ‘আত্মবিশ্বাসী নববধূ’ উল্লেখ করে তিনি লিখেছিলেন, ‘একমুঠো হলুদ, এক আকাশ আনন্দ, আর এক জীবনের অপেক্ষা।’


প্রসঙ্গত, দীপ্তির ব্যবহৃত বাক্যটি মূলত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের একটি জনপ্রিয় উপন্যাসের সংলাপের অনুকরণে লেখা। মূল লেখায় হুমায়ূন আহমেদ লিখেছিলেন, ‘ডাক্তার সাহেব, তুমি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছ! তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব।’ সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে বহুল পরিচিত এ সংলাপকে নিজের বাস্তব জীবনের আবেগের সঙ্গে মিলিয়ে ‘ডাক্তার সাহেব’-এর জায়গায় ‘মাস্টার সাহেব’ ব্যবহার করেছেন দীপ্তি। ফলে তাঁর বিয়ের ছবির সঙ্গে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত বার্তাটি শুধু ভালোবাসার প্রকাশই নয়, হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যজগতের প্রতি একধরনের নস্টালজিক ইঙ্গিত বললে বাড়াবাড়ি হবে না।