এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল বাংলাদেশ। উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ এবং চীনের কাছে ২-০ গোলে হারের পর, আজ শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের কাছে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে সাবিনা-মারিয়ারা। তিন ম্যাচ মিলিয়ে মোট ১১ গোল হজম করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। বড় জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামলেও শেষ পর্যন্ত গোলের মালা পরেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে টাইগ্রেসদের।
স্বপ্ন বনাম বাস্তবতার লড়াই
ম্যাচ শেষে পার্থে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার তুলে ধরেন স্বপ্ন আর বাস্তবতার রূঢ় ব্যবধান। স্কোরলাইন দলের লড়াইকে পুরোপুরি প্রতিফলিত করে না বলে মনে করেন তিনি। বাটলারের মতে, অনেক সময় ধরে বাংলাদেশ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বেশ ভালো ফুটবল খেলেছে।
শক্তির পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে কোচ একটি কঠোর উপমা টেনে বলেন, "আমরা এমন এক দলের বিপক্ষে খেলছি যারা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে প্রায় ৬৩ ধাপ এগিয়ে এবং শারীরিকভাবে অনেক শক্তিশালী। তাদের উন্নত ভিডিও সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি আছে, যা আমাদের কাছে বিলাসিতা। মাঝেমধ্যে মনে হয়, একজন বক্সার এক হাত পেছনে বেঁধে লড়াই করতে নেমেছে।"
অবকাঠামো ও অভিজ্ঞতার অভাব
বাটলার আক্ষেপ করে জানান, বাংলাদেশে দলের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অনুশীলনের মাঠও নেই। সাড়ে ১৯ বছর গড় বয়সের এই তরুণ দলটির পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি ‘এন্ড প্রোডাক্ট’ বা গোল করার সক্ষমতার অভাবকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, "আমরা বল দখলে রেখে আধিপত্য বিস্তার করেছি, কিন্তু গোল না থাকলে সব পরিশ্রমই বৃথা।"
হারলেও গর্বিত কোচ
ফলাফল আশানুরূপ না হলেও নিজের শিষ্যদের নিয়ে গর্বিত বাটলার। তিনি বলেন, "ফলাফলে আমি হতাশ হলেও মেয়েদের জন্য আমার প্রশংসা ছাড়া আর কিছু নেই। তারা অনেক দূর এগিয়ে এসেছে এবং তাদের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে।"
ভবিষ্যতে উন্নতির জন্য নিয়মিত উন্নত প্রশিক্ষণ ক্যাম্প এবং উচ্চ র্যাঙ্কিংয়ের দলগুলোর বিপক্ষে বেশি বেশি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে বলেন কোচ। কোনো অজুহাত না দিয়ে এই টুর্নামেন্টকে একটি বড় শিক্ষার জায়গা হিসেবেই দেখছেন তিনি।