১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:৫৯:১০ অপরাহ্ন


রাউজানে বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা: লাশ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ ও পুলিশের আলটিমেটাম
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৫ ১৮:০৪:২২
রাউজানে বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা: লাশ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ ও পুলিশের আলটিমেটাম


চট্টগ্রামের রাউজানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত বিএনপি কর্মী কাউসারুজ্জামানের (২৭) জানাজা ও দাফনের আগে তাঁর লাশ নিয়ে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ স্বজন ও গ্রামবাসী। আজ শনিবার বিকেলে রাউজানের চারাবটতল এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী এই অবরোধে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

অবরোধ ও জনদুর্ভোগ

বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলা এই অবরোধে দেখা যায়, লাশ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং খাটিয়া রাস্তার মাঝখানে রেখে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়েছে। শত শত নারী ও পুরুষ সড়কে অবস্থান নিয়ে খুনিদের বিচারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ায় প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে সাধারণ যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: নানাবাড়ি থেকে ফেরার পথে হামলা

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে কাউসারুজ্জামান তাঁর নানাবাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে পায়ে হেঁটে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে ৭-৮ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাঁর গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা কাউসারের পিঠে গুলি করে পালিয়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে আজ ভোরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত কাউসারের বাবা আবুল কালামের দাবি, তাঁর ছেলে বিএনপির সক্রিয় সমর্থক এবং এলাকার নানা অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারণে আগে আরও কয়েকবার তাঁর ওপর হামলা হয়েছিল। এবার পরিকল্পিতভাবে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

রাউজানে ২০ মাসে ২২ খুন: আতঙ্কে জনপদ

রাউজান থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য এবং স্থানীয় রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে গত ২০ মাসে রাউজানে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধে মোট ২২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৬টি হত্যাকাণ্ডই রাজনীতিসংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হচ্ছে।

  • জানুয়ারি ৫: যুবদল নেতা মুহাম্মদ জানে আলমকে গুলি করে হত্যা।

  • ফেব্রুয়ারি ২৫: যুবদল কর্মী আবদুল মজিদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা।

  • এপ্রিল ২৫: বিএনপি কর্মী কাউসারুজ্জামানকে গুলি করে হত্যা।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম জানান, কাউসারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে একটি বিস্ফোরণ আইনের মামলা ছিল। আজকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি, তবে দাফন শেষে পরিবারকে মামলা করতে বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।