১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০১:১৯:৩৮ পূর্বাহ্ন


রেলে যুক্ত হলো ৫১টি অতিরিক্ত কোচ: কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৫-২৪ ২০:২৫:২৬
রেলে যুক্ত হলো ৫১টি অতিরিক্ত কোচ: কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত


আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের ট্রেন ভ্রমণ আরও স্বস্তিদায়ক, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে রেলবহরে নতুন করে ৫১টি অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ এই উদ্যোগে দৈনিক প্রায় ৪০ হাজার যাত্রী কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ পাবেন। আজ রোববার (২৪ মে) সকালে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) পরিদর্শনে এসে সামগ্রিক ঈদযাত্রার ব্যবস্থাপনা ও অগ্রগতির চিত্র পর্যবেক্ষণ শেষে সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ঘুরে দেখেন এবং ট্রেনের জন্য অপেক্ষমাণ সাধারণ যাত্রীদের সাথে পরম মমতায় কুশল ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

যাত্রী সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত কোচের সুবিধা

রেলমন্ত্রী জানান, প্রতি বছরই ঈদের সময় ট্রেন যাত্রীদের উপচে পড়া উপাদানের চাপ সামাল দেওয়া রেলওয়ের জন্য এক বিরাট পরীক্ষা। এবার যাত্রীসেবার মান উন্নত করতে এবং ট্রেনের ভেতরে উপচে পড়া ভিড় কিছুটা লাঘব করতে রেলওয়ের বিশেষ কারিগরি টিম খাটিয়ে এই ৫১টি অতিরিক্ত কোচ প্রস্তুত করে লাইনে নামানো হয়েছে। সাধারণ সময়ে রেলওয়ে প্রতিদিন গড়ে ৩২ হাজার মানুষকে আন্তঃনগর ট্রেনে যাতায়াত করানোর সুযোগ দিতে পারে। তবে ঈদের বিশেষ সূচিতে আসন সংখ্যা আরও ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে প্রতিদিন অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার মানুষের আসন নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিশেষ কোচ ও ঈদ স্পেশাল ট্রেনের সমন্বয়ে দৈনিক প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বাড়ি ফিরতে পারছেন, যা ঈদযাত্রার ধকল অনেকটাই কমিয়ে আনবে।

চাহিদা ও সীমাবদ্ধতার মহাসংকট: রেলমন্ত্রীর অকপট স্বীকারোক্তি

তবে লাখ লাখ মানুষের নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার আকুলতার বিপরীতে রেলের এই বিদ্যমান সক্ষমতা যে একেবারেই অপর্যাপ্ত, তা সংবাদমাধ্যমের সামনে অত্যন্ত সততার সাথে স্বীকার করেছেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, "আমাদের দেশের লাখ লাখ মানুষের ইচ্ছা থাকে ট্রেনে চড়ে আরামদায়কভাবে বাড়ি যাওয়ার। কিন্তু আমাদের যে পরিমাণ সম্পদ ও ট্রেনের সংখ্যা রয়েছে, তা এই বিশাল জনস্রোতের চাহিদার তুলনায় খুবই নগণ্য। সীমিত অবকাঠামো নিয়ে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত নিশ্চিত করাটাই এই মুহূর্তে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ।" এই সীমাবদ্ধতার মাঝেও রেলের শেষ সীমানা পর্যন্ত সেবা দিতে মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ছুটি বাতিল করে মাঠে কাজ করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শিডিউল বিপর্যয় রোধে কঠোর নজরদারি

ঈদের সময় ট্রেনের সময়সূচি ঠিক না থাকা বা শিডিউল বিপর্যয় হওয়া ট্রেনযাত্রীদের অন্যতম প্রধান ভোগান্তির কারণ। এই ট্র্যাডিশনাল ভোগান্তি চিরতরে দূর করতে রেলওয়ের কারিগরি বিভাগ ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ২৪ ঘণ্টা লাইভ মনিটরিং করছে বলে নিশ্চিত করেন মন্ত্রী। সিডিউল বিপর্যয় এড়াতে এবং প্রতিটি ট্রেন যেন যথাসময়ে ঢাকা ছাড়ে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে রেলমন্ত্রী স্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কাউন্টার এবং ট্রেনের ভেতরের পরিবেশ পরীক্ষা করেন এবং কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক থেকে শতভাগ যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।