১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:৩২:৪৩ অপরাহ্ন


রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-৩০ ১৭:১১:১৩
রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের ছবি: সংগৃহীত


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে অবিলম্বে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই তীব্র সমালোচনা করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন যে, এই রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে অবস্থান করার কিংবা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার অবশিষ্ট নেই।

নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, "রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি—এই রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রয়োজন, তাকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন।" তিনি অভিযোগ করেন, মো. সাহাবুদ্দিন অতীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার থাকাকালীন ফরমায়েশি দায়িত্ব পালন করেছেন। নাহিদ ইসলামের দাবি অনুযায়ী, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ‘ক্লিনচিট’ দেওয়া এবং বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো বাতিলের নেপথ্যে তার ভূমিকা ছিল।

আলোচনায় নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন যে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের ঘটনার সাথে জড়িত এবং জুলাই গণহত্যার সময়ও তার বিতর্কিত ভূমিকা ছিল। এমন একজন ব্যক্তিকে ‘দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ ও মিথ্যুক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, তাকে এখনো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে রাখা দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।

একই অধিবেশনে রাজনৈতিক বিভাজন নিয়েও কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। বিএনপি ও জামায়াতের দীর্ঘকালীন জোট রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "সঙ্গে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি"—রাজনীতির এই নেতিবাচক বিভাজন নিরসনের বড় দায়িত্ব ছিল দেশের প্রধান দলগুলোর। রাষ্ট্রপতির অপসারণের এই জোরালো দাবি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।