১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:৩২:৪৬ অপরাহ্ন


ব্রহ্মপুত্রে পাপমুক্তির স্নানে পুণ্যার্থীর ঢল
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-২৬ ১৩:১৩:৫৮
ব্রহ্মপুত্রে পাপমুক্তির স্নানে পুণ্যার্থীর ঢল ছবি: সংগৃহীত


পাপ মুক্তির বাসনা আর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জামালপুরের ব্রহ্মপুত্র নদে অনুষ্ঠিত হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী মহা অষ্টমী স্নানোৎসব। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর থেকেই শহরের ফেরিঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর ঢল নামে। নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী ভক্তরা শাস্ত্রীয় বিধি মোতাবেক স্নান ও তর্পণের মাধ্যমে এই উৎসবে অংশ নেন। কেবল জামালপুর নয়, পার্শ্ববর্তী শেরপুর ও টাঙ্গাইলসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও বিপুল সংখ্যক ভক্ত এই স্নানোৎসবে যোগ দিতে ব্রহ্মপুত্রের তীরে সমবেত হন।

সনাতন ধর্মের রীতি অনুযায়ী, ভক্তরা ফুল, বেলপাতা, ডাব ও কলা দিয়ে পিতৃকুলের উদ্দেশে তর্পণ ও অর্ঘ্য প্রদান করেন। এই স্নানের পৌরাণিক পটভূমি সম্পর্কে পুরোহিতরা জানান, ভগবান পরশুরাম যখন পিতার আদেশে মাতৃহত্যা করেন, তখন তাঁর হাতে কুঠারটি স্থায়ীভাবে লেগে যায়। দীর্ঘকাল বিভিন্ন তীর্থে ঘুরেও সেই কুঠার হাত থেকে খসাতে না পেরে শেষপর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের পুণ্যজলে স্নান করার পর তাঁর হাতের কুঠারটি খসে পড়ে এবং তিনি মাতৃহত্যার পাপ থেকে মুক্তি পান। সেই বিশ্বাস থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন, মহা অষ্টমীর এই বিশেষ তিথিতে ব্রহ্মপুত্রের পবিত্র জলে স্নান করলে সব পাপ মোচন হয়।

উৎসবের গুরুত্ব তুলে ধরে জামালপুর বানিয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কিশোর কুমার দেব জানান, বংশপরম্পরায় এই বিশ্বাস থেকেই দূর-দূরান্তের মানুষ পরম শ্রদ্ধায় ব্রহ্মপুত্রের তীরে ছুটে আসেন। এদিকে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, উৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ধর্মীয় উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে স্নানোৎসবটি উদযাপিত হয়েছে।