১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৫:৫৩:৩৮ অপরাহ্ন


রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ
জাতীয় ও রাজনৈতিক প্রতিবেদক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৮-০৯ ১৮:১৮:৫৩
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ছবি: সংগৃহীত


‘প্রতিযোগিতাপূর্ণ রাজনীতির জন্যই প্রার্থী দেওয়া’; বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে বৈঠক শেষে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের ঘোষণা

      আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমকে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

আজ রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে ১১ দলের এক নীতি-নির্ধারণী বৈঠক শেষে এই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। জোটের অন্যতম শীর্ষ শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সর্বসম্মতিক্রমে অলি আহমদের নাম ঘোষণা করেন।

ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বার্তা’


নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে জোটের পক্ষ থেকে শীর্ষ নেতারা বেশ কিছু রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন:

  • নাহিদ ইসলামের বক্তব্য: জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। জুলাই সনদে সর্বজনগ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের একটি নতুন রূপরেখা ছিল। কিন্তু বিএনপি তা বাস্তবায়ন না করায় সর্বসম্মত রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের পথ রুদ্ধ হয়েছে। তাই ১১ দলীয় জোট মূলত একটি প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বার্তা দিতেই প্রার্থী দিয়েছে।

  • বিগত অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব: অলি আহমদ বিভিন্ন সময়ে সততা ও দক্ষতার সাথে মন্ত্রিপরিষদের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটে তাঁর অভিজ্ঞতার অভিভাবকত্ব প্রয়োজন বলে মনে করে এই জোট।

  • বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমিরের বক্তব্য: জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা মনে করি রাজনীতির গতি ও সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা উচিত। দেশের সামগ্রিক কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই আমাদের বিচারে সবচেয়ে উপযুক্ত ও যোগ্য ব্যক্তিটিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।”

অলি আহমদ ও অন্যান্য শরিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া


মনোনয়ন পাওয়ার পর কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ ও দেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর তথ্যসমূহবিবরণ
মনোনীত প্রার্থীকর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম (চেয়ারম্যান, এলডিপি)
মনোনয়নকারী জোটজামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য
ঘোষণাকারীনাহিদ ইসলাম (আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি - NCP)
ভোটগ্রহণের নির্ধারিত তারিখ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রতিক্রিয়ায় অলি আহমদ বলেন, “সবাই মনে করেছে, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এবং পরীক্ষিত ব্যক্তি, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই। নির্বাচনে আমরা জিতব নাকি হারব—সেটা প্রধান বিষয় নয়; মূল বিষয় হলো আমরা সবসময় জনগণের স্বার্থরক্ষায় পাশে দাঁড়িয়েছি এবং থাকব।”

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকও অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য অত্যন্ত যোগ্য প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে জোটের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।