১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৫:৫৩:১৩ অপরাহ্ন


মিমো আত্মহত্যা: সুদীপ-হানিকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে যে তথ্য উঠে এল
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৮ ১৪:২৫:১৭
মিমো আত্মহত্যা: সুদীপ-হানিকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে যে তথ্য উঠে এল ছবি: সংগৃহীত


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমো’র আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী ইকবাল হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এই আদেশ দেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী ও বান্ধবী উম্মে হানির মধ্যে গড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরেই অভিমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন মিমো।

তদন্ত ও মিমোর সহপাঠীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিবাহ বিচ্ছেদের পর মিমো নতুন একটি সম্পর্কে জড়ালেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরবর্তীতে নিজ বিভাগের শিক্ষক ড. সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তার প্রেমের সম্পর্ক বজায় ছিল। তবে সম্প্রতি এই সম্পর্কের মাঝে ফাটল ধরে যখন মিমোরই এক বান্ধবী, উম্মে হানি, সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে মিমো ও সুদীপের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়। সুদীপ ও হানিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের মধ্যকার হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন বিশ্লেষণ করে পুলিশ এই ত্রিমুখী সম্পর্কের টানাপোড়েনের সত্যতা পেয়েছে।

আত্মহত্যার আগে লিখে যাওয়া মিমোর চিরকুটের সূত্র ধরে তার বান্ধবী উম্মে হানিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে হানির সঙ্গে শিক্ষক সুদীপের সুসম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলেও মিমোর আত্মহত্যার প্ররোচনায় তার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী মো. নাসিরুল আমিন জানিয়েছেন, আসামিকে ইতিমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং আত্মহত্যার নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর কারণ বা প্ররোচনা রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত আছে।

তদন্ত কার্যক্রম শেষ হলে এই মেধাবী শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও এর নেপথ্যে থাকা দায়ীদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে বলে পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী জেলহাজতে রয়েছেন এবং পুরো ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে।