১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:০৩:৪৪ অপরাহ্ন


ডায়ানার মৃত্যুর কদিন পর চার্লস বলেছিলেন, মানুষ ‘খুব শিগগির’ তাঁকে ভুলে যাবে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৯-২১ ১৫:৪২:৪৩
ডায়ানার মৃত্যুর কদিন পর চার্লস বলেছিলেন, মানুষ ‘খুব শিগগির’ তাঁকে ভুলে যাবে ছবি: সংগৃহীত


প্রিন্সেস ডায়ানার ভাই আর্ল স্পেন্সারের নতুন বইয়ে বিস্ফোরক দাবি; রাজপ্রাসাদের আপত্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ

        বিশ্বজুড়ে অগুনতি মানুষের হৃদয় জয় করা প্রিন্সেস ডায়ানার মর্মান্তিক প্রয়াণের পর কেটে গেছে বহু বছর। তবে এত বছর পর আবারও ব্রিটিশ রাজপরিবারকে কেন্দ্র করে এক নতুন বিস্ফোরক দাবি সামনে এসেছে। ডায়ানার ভাই আর্ল স্পেন্সার নিজের সদ্য প্রকাশিত নতুন বইয়ে দাবি করেছেন—বোনের মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন পর তৎকালীন প্রিন্স চার্লস (যুক্তরাজ্যের বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লস) ফোনে তাঁকে বলেছিলেন যে, সাধারণ মানুষ ‘খুব শিগগির’ ডায়ানাকে ভুলে যাবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আর্ল স্পেন্সার নিজের এই দাবিতে সম্পূর্ণ অনড় থাকার কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন। উক্ত ফোনালাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারা জীবনে প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে তাঁর মাত্র দুবার ফোনে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। ফলে ডায়ানার প্রয়াণের পরপরই হওয়া ওই ফোনালাপে চার্লস ঠিক কী বলছিলেন, তা তিনি অত্যন্ত মনোযোগ ও সতর্কতার সঙ্গে শুনেছিলেন এবং তা মনে রেখেছেন। আর্ল স্পেন্সার জোর দিয়ে বলেন, চার্লস ঠিক এই শব্দগুলোই উচ্চারণ করেছিলেন।

দাবির পক্ষে কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আর্ল স্পেন্সার জানান, চার্লসের ওই মন্তব্যটি এতটাই অবিশ্বাস্য ও হৃদয়বিদারক ছিল যে, তিনি তাৎক্ষণিকভাবেই বিষয়টি নিজের পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে ব্যক্ত করেছিলেন।

এদিকে, আর্ল স্পেন্সারের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদ (বাকিংহাম প্যালেস) থেকে আপত্তি জানানো হলে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রাজপ্রাসাদের প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, "তারা বিষয়টিকে একধরনের ধোঁয়াশার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে, তাই না? তারা দাবি করেছে মানুষের স্মৃতি ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষ কার কথা বিশ্বাস করবে, তা স্পষ্ট—কারণ আমি শতভাগ সত্য কথাই বলছি।"

সাক্ষাৎকারে আর্ল স্পেন্সারের কাছে রাজপরিবার থেকে বেরিয়ে আসা প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলের প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অতি-কৌতূহলী আচরণ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। ডায়ানা বেঁচে থাকলে ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স (হ্যারি-মেগান) দম্পতির বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে নিজের জীবনের মিল খুঁজে পেতেন কি না জানতে চাওয়া হলে স্পেন্সার মন্তব্য করেন—ডায়ানা কিংবা হ্যারি-মেগানকে নিয়ে ট্যাবলয়েডগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায় সেগুলো কতটা কুৎসিত ও অপ্রীতিকর।

তিনি গভীর অনুসূচনা প্রকাশ করে বলেন, "আমার মনে হয়, প্রিন্সেস ডায়ানার জীবনের করুণ পরিণতি থেকে সংবাদমাধ্যম ও মানুষের শিক্ষা নেওয়া উচিত ছিল।" তিনি জানান, হ্যারি বা মেগানের পক্ষে সাফাই গাইতে তিনি আসেননি; তবে কোনো মানুষের ব্যক্তিগত জীবনকে প্রতিদিন এভাবে সংবাদমাধ্যমের নজরদারিতে পিষে ফেলা হলে তা সেই ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যে ক্যানসারের মতো মারাত্মক ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে।

সংবাদমাধ্যমের অবিরত সমালোচনা ও কড়া নজরদারি ডায়ানার জীবনে কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল, তার স্মৃতিচারণ করে স্পেন্সার বলেন, তিনি স্বচক্ষে বোনের চোখে চরম হতাশার জল দেখেছেন। ডায়ানা যেকোনো ধরনের সমালোচনার ব্যাপারে ছিলেন ভীষণ সংবেদনশীল।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট ফ্রান্সে পাপারাজ্জিদের তাড়া খেয়ে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অকালে প্রাণ হারান প্রিন্সেস ডায়ানা। মৃত্যুর আগপর্যন্ত বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের তীব্র আগ্রহ ও কড়া নজরদারির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি।