উচ্চারণ নিয়ে ট্রলের মুখে 'প্যান-ইন্ডিয়া' তারকা রাশমিকা; নিজের সীমাবদ্ধতা মেনে দিয়ে দিলেন কড়া জবাব
তেলেগু, কন্নড়, তামিল কিংবা হিন্দি—দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা থেকে শুরু করে বর্তমান বলিউড, বহুভাষিক চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করে পুরো ভারতজুড়ে নিজের এক বিশাল দর্শকবলয় তৈরি করেছেন অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। তবে কাজের পরিধি ও জনপ্রিয়তার পাশাপাশি এই বহুভাষিক ক্যারিয়ারই তাঁকে বারবার এনে দাঁড় করিয়েছে তীব্র সমালোচনার কেন্দ্রে। বিশেষ করে বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে তাঁর ডায়ালগ ডেলিভারি, ভাষার ধরণ ও উচ্চারণের ত্রুটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হরহামেশাই তাঁকে ট্রলের শিকার হতে হয়েছে।
অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব অবিরাম কটাক্ষ ও ট্রল নিয়ে খোলামেলা মুখ খুলেছেন ‘পুষ্পা’খ্যাত এই তারকা। ট্রলকারীদের উদ্দেশ্যে কড়া জবাব দিয়ে রাশমিকা স্পষ্ট স্বীকার করেছেন, তিনি কোনো নির্দিষ্ট একটি ভাষার ওপর বিশেষজ্ঞ বা সর্বদর্শী নন; বরং কাজের প্রয়োজনে একাধিক ভাষায় অভিনয় করতে গিয়ে প্রতিটি ভাষার সঙ্গে তাঁর এক আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, যাকে তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই দেখেন।
রাশমিকার নিজ মাতৃভাষা হলো ‘কোদাভা টাক’। ভারতের কর্ণাটকের কুর্গ অঞ্চলে এই ভাষার প্রচলন থাকলেও সেখানে কোনো প্রথাগত বড় চলচ্চিত্র শিল্প গড়ে ওঠেনি। ফলে ২০১৬ সালে কন্নড় সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর থেকেই তাঁকে নিজের মাতৃভাষার বাইরে গিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় মানিয়ে নিতে হয়েছে। কন্নড়ের পর তেলেগু ছবিতে অভিনয় করে তিনি প্রথম প্যান-ইন্ডিয়া পরিচিতি পান। পরবর্তীতে তামিল ও হিন্দি চলচ্চিত্রেও সফলভাবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।
এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাশমিকা জানান, কোনো একটি নির্দিষ্ট ভাষার আঞ্চলিকতাকে আঁকড়ে ধরে তাঁর ক্যারিয়ার গড়ে ওঠেনি; বরং নির্মাতাদের সুযোগ এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি দর্শকের ভালোবাসাই তাঁকে এক ভাষার ইন্ডাস্ট্রি থেকে অন্য ইন্ডাস্ট্রিতে নিয়ে গেছে।
নিজের বক্তব্য তুলে ধরে এই অভিনেত্রী বলেন, তিনি সব ভাষাকেই অত্যন্ত ভালোবাসেন এবং নিজের মনে করেন। ভিন্ন ভাষার আঞ্চলিক দর্শকদের সঙ্গে তাঁদের ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করাটা তাঁর কাছে কেবল ভাষা শেখার কৌশল নয়, বরং দর্শকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর একটি বড় মাধ্যম।
তবে অভিনয়ে উচ্চারণের বৈচিত্র্য ও ত্রুটি নিয়ে ট্রল প্রসঙ্গে রাশমিকার অবস্থান খুবই পরিষ্কার। বিনয়ের সঙ্গে নিজের দুর্বলতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, তিনি কোনো একটি নির্দিষ্ট ভাষায় নিজেকে শতভাগ ‘পারফেক্ট’ বা বিশেষজ্ঞ দাবি করেন না। একাধিক ভাষায় নিয়মিত কাজ করতে গেলে প্রতিটি ভাষার ব্যাকরণ ও উচ্চারণে শতভাগ নিখুঁত হওয়া সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে। তাঁর কাছে ভাষা শেখার একাগ্র আগ্রহ, আন্তরিক চেষ্টা এবং দর্শকের সঙ্গে সাবলীল যোগাযোগ বজায় রাখাটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অভিনেত্রীর ভাষ্যমতে, সিনেমা মূলত একটি দলগত শিল্পের ফসল। একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে তিনি নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু একটি চলচ্চিত্রের সাফল্য তৈরি হয় পরিচালক, সহশিল্পীদের অভিব্যক্তি, চিত্রগ্রাহক ও সংগীত পরিচালকের যৌথ পরিশ্রমে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিটি অহেতুক ট্রল বা নেতিবাচক মন্তব্যকে গায়ে মেখে নিজের কাজ থামাতে চান না তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে কন্নড় ছবি দিয়ে পথচলা শুরু করা রাশমিকা পরবর্তীতে ‘গীত গোবিন্দম’, ‘ডিয়ার কমরেড’, ‘সারিলেরু নিক্কেভারু’ এবং বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলা ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’ সিনেমার মাধ্যমে প্যান-ইন্ডিয়া স্তরে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পান। এরপর ‘গুডবাই’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে ডেবিউ করার পর মেগা-হিট ‘অ্যানিমেল’ ছবির সাফল্য হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও তাঁর অবস্থান পোক্ত করে।
বর্তমানেও রাশমিকার হাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি বিগ বাজেট প্রজেক্ট। এর মধ্যে অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে তাঁর নতুন ছবি ‘মাইসা’ নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনা তুঙ্গে। পাশাপাশি কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এম এস সুব্বুলক্ষ্মীর বায়োপিকের মতো চ্যালেঞ্জিং প্রজেক্টেও দেখা যাবে এই বহুভাষিক তারকাকে।