১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:৫৪:২৬ অপরাহ্ন


মানুষের ৪০ বছর বয়স সম্পর্কে কোরআনে যা বলা হয়েছে...
অনলাইন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৯-০২ ১৬:০০:০০
মানুষের ৪০ বছর বয়স সম্পর্কে কোরআনে যা বলা হয়েছে... ছবি: সংগৃহীত


পরিপক্বতা, ওহি নাজিল এবং শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়


        মানুষের জীবনের নানা পর্যায়ের মধ্যে ৪০ বছর বয়সটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সংবেদনশীল। পবিত্র কোরআনেও জীবনের এই নির্দিষ্ট বয়সসীমাটির গুরুত্ব তুলে ধরে বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।


সুরা আহকাফে আল্লাহ তাআলা এর বর্ণনা দিয়ে এর গুরুত্ব সুস্পষ্ট করেছেন।


কোরআনের আলো ও তাফসিরবিদদের মতামত


পবিত্র কোরআনের সুরা আহকাফের ১৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা এর চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন:


‘অবশেষে যখন সে পূর্ণ যৌবনে উপনীত হয় এবং চল্লিশ বছরে পৌঁছে যায়, তখন সে বলে, হে আমার রব, আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন, যাতে আমি আপনার সেই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি, যা আপনি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছেন। আর আমি যেন এমন সৎকাজ করি, যা আপনি পছন্দ করেন। আমার জন্য আমার সন্তান-সন্ততিদেরও সংশোধন করে দিন। নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে তওবা করলাম এবং নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুরা আহকাফ, আয়াত : ১৫)

তাফসিরবিদদের মতে, ৪০ বছর এমন একটি বয়স যখন মানুষের মেধা, বুদ্ধি ও উপলব্ধি পূর্ণতা লাভ করে এবং সহনশীলতা বৃদ্ধি পায়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বরকতময় ৪০ বছর বয়সেই প্রথম ওহি নাজিল হয়েছিল, যা জীবনের এই পর্যায়টির অপরিসীম গুরুত্ব নির্দেশ করে।


                  ৪০ বছর বয়সের গুরুত্ব ও প্রভাবসংক্ষেপ
   -----------------------------------------------------------------
   ১. কোরআনিক নির্দেশনা : শুকরিয়া আদায়, তওবা ও সন্তান-সন্ততি সংশোধনের দোয়া (সুরা আহকাফ: ১৫)
২. নবুয়তের বয়স : মহানবী (সা.)-এর ওপর ৪০ বছর বয়সে ওহি নাজিল
৩. শারীরিক পরিবর্তন : চুল-দাড়ি পাকা, ত্বকে বলিরেখা ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস
৪. মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব : নারীদের হরমোনজনিত মেজাজ পরিবর্তন ও দায়িত্বের মাত্রা বৃদ্ধি


শারীরবৃত্তীয়, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন


চিকিৎসাবিজ্ঞান ও লোকজ অভিজ্ঞতায় এই বয়সে মানুষের শরীরে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা দেয়। বাংলায় একটি প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে—‘চল্লিশের পর বলো, হে আল্লাহ, সাহায্য করুন।’ এ থেকে স্পষ্ট যে, যৌবনের উচ্ছ্বাস পার করে মানুষ যখন এই বয়সে পা দেয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই আগের সেই প্রাণশক্তি কমে আসে এবং রোগের ঝুঁকি কিছুটা বাড়ে।


দিকপ্রভাব ও পরিবর্তন
নারী ও পুরুষে প্রভাববিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে বিষণ্ণতা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা মানসিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
আশাবাদ ও দায়িত্ববলা হয়ে থাকে ‘চল্লিশের পরই আসল জীবন শুরু’, যা দায়িত্ব ও সচেতনতার নতুন দুয়ার খুলে দেয়।
অবয়ব ও উপলব্ধিচুল ও দাড়িতে পাকা ভাব ধরা, ত্বকে বলিরেখা স্পষ্ট হওয়া এবং অতীতে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মূল্যায়নে আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া বা অনুশোচনা তৈরি হওয়া।
সব মিলিয়ে, ৪০ বছর বয়স কেবল বয়সের একটি সংখ্যা নয়; বরং এটি তওবা, আত্মোপলব্ধি, সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং পরিবারের নৈতিক সংশোধনে আত্মনিয়োগ করার উপযুক্ত সময়।