উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ইরানের ভয়াবহ হামলার পর তেহরানকে কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ, ২০২৬) ভোরে রিয়াদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সৌদি আরব ও তার প্রতিবেশীদের ওপর কোনো হামলা আর সহ্য করা হবে না।
সক্ষমতা প্রদর্শনের হুমকি
সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্স ফয়সাল বলেন, "ইরানিদের এটা বোঝা জরুরি যে সৌদি আরব এবং আক্রান্ত দেশগুলোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতা ও সামর্থ্য রয়েছে। আমরা চাইলে তা যেকোনো সময় কাজে লাগাতে পারি।" তিনি আরও যোগ করেন যে, সৌদি আরবের এই ধৈর্য অসীম নয় এবং ইরানকে তাদের কৌশল অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
জ্বালানি কেন্দ্রে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কাতারের রাস লাফান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালায়।
রাস লাফান (কাতার): এটি বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র, যা বিশ্ব সরবরাহের ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে, আমিরাত ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৭টি ড্রোন মোকাবেলা করেছে।
'বিশ্বাস পুরোপুরি ভেঙে গেছে'
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এই হামলা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং ইরান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ তৈরি করতে আগে থেকেই প্রতিবেশীদের লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা করেছিল। তিনি বলেন, "যুদ্ধ একদিন শেষ হবে ঠিকই, কিন্তু ইরানের এই বিশ্বাসঘাতকতার পর তাদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা এবং বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।"
প্রেক্ষাপট: ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ?
ইরান দাবি করেছে, তাদের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা কাতার, সৌদি ও আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনায় এই হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি আরবের মতে, প্রতিবেশীদের ওপর এমন আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।