১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:২৫:২২ অপরাহ্ন


রাজধানীর চারপাশের নদীদূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৮-০৬ ১৫:৪৭:৪১
রাজধানীর চারপাশের নদীদূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ছবি: সংগৃহীত


বুড়িগঙ্গাসহ ৪ নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে গঠিত হচ্ছে আন্তঃসংস্থা কমিটি; গাফিলতি বরদাশত না করার কঠোর হুঁশিয়ারি


      বুড়িগঙ্গাসহ রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর ভয়াবহ দূষণ রোধে দ্রুত একটি সময়বদ্ধ ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা কার্যকর বাস্তবায়নের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দূষণ রোধে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।

নদীদূষণের মূল কারণ চিহ্নিত ও কর্মপরিকল্পনা


বৈঠকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যাসহ রাজধানী সংলগ্ন নদীগুলোর বর্তমান পরিবেশগত সংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়।

  • দূষণের প্রধান কারণ: শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে নিক্ষেপ, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, কঠিন বর্জ্যের দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং খালগুলোর নাব্যতা হ্রাস পাওয়াকে নদীদূষণের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

  • কঠোর পদক্ষেপের তাগিদ: শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) কার্যকরভাবে চালু রাখা নিশ্চিত করা, নদী ও খালদূষণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, বিদ্যমান পরিবেশ আইনের প্রয়োগ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে আন্তঃসংস্থা কমিটি গঠন


ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা ওয়াসা, বিআইডব্লিউটিএ, রাজউক, উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নদী সুরক্ষা বৈঠকের সারসংক্ষেপবিস্তারিত বিবরণ
বৈঠকের সময় ও স্থান৬ আগস্ট, ২০২৬ (সকাল ৯:৩০ মি.), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সভাকক্ষ
সভাপতি/প্রধানপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধান সিদ্ধান্তপ্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠন
কমিটির মূল দায়িত্বসমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা
সম্পৃক্ততার নির্দেশপরিবেশবাদী সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও স্থানীয় জনগণ

‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জবাবদিহি করতে হবে’


বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ঢাকার নদীদূষণ এখন এক দুর্বিষহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখনই যদি কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। তাই দূষণ রোধে কোনো অবহেলার সুযোগ নেই। শুধু কাগজ-কলমে পরিকল্পনা করলেই হবে না, মাঠ পর্যায়ে এর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।”

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা নৌ এলাকার কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ-আল-মাকসুস, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আব্দুস সাত্তারসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।