১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০৩:১৪:১২ পূর্বাহ্ন


২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ!
ক্রীড়া প্রতিবেদক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৬-৩০ ১৮:৪৩:২৬
২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ!


দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবারও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে ইনিংস ব্যবধানে হারের তেতো স্বাদ পেল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ তাদের প্রথম টেস্ট খেলেছিল ২০০১ সালে বুলাওয়েতে, যেখানে তারা ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল। এরপর গত ২৫ বছরে দুই দল আরও ২০টি টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ আরও সাতটি ম্যাচে হারলেও কোনোটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হারেনি। এবার হারারেতে অনুষ্ঠিত টেস্টে জিম্বাবুয়ের কাছে মাত্র আড়াই দিনেই ইনিংস ও ৮৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে গেছে বাংলাদেশ দল। ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪০ রানে অলআউট হয়ে যায়। জবাবে জিম্বাবুয়ে তাদের একমাত্র ইনিংসে ৪১০ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায়। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ মাত্র ১৮৫ রানে অলআউট হলে এই লজ্জাজনক পরাজয় নিশ্চিত হয়।

ম্যাচের মূল ব্যবধান গড়ে দিয়েছে দুই দলের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং পারফরম্যান্স। প্রথম ইনিংসে দুই ওপেনারকে দ্রুত হারিয়ে ফেলার পরও নাজমুল হোসেন ও মুমিনুল হকের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে তাঁদের মধ্যকার ৭৭ রানের সম্ভাবনাময় জুটিটি ভাঙার পরপরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। রিচার্ড এনগারাভা, ব্লেসিং মুজারাবানি ও নিউম্যান নিয়ামহুরিদের গতি এবং বাউন্সের সামনে চরম বিপর্যয়ে পড়েন ব্যাটসম্যানরা, যার মধ্যে বেশির ভাগই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। প্রথম ইনিংসে শেষ ৮টি উইকেট বাংলাদেশ হারিয়েছে মাত্র ২৭ রানের ব্যবধানে। এত কম রানে অলআউট হওয়ার পর বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ের ওপর যে ধরনের চাপ সৃষ্টি করা দরকার ছিল, তা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন বাংলাদেশের বোলাররা। উদ্বোধনী জুটিতেই ৮৯ রান তুলে ফেলে জিম্বাবুয়ে। বেন কারেন ও ব্রেন্ডন টেলরকে আউট করে খালেদ আহমেদ কিছুটা চেষ্টা করলেও ততক্ষণে চালকের আসনে বসে পড়ে স্বাগতিকরা। ইনোসেন্ট কাইয়ার ১৪০ রানের অনবদ্য ইনিংস এবং ক্রেইগ আরভিন ও ব্রায়ান বেনেটের জোড়া হাফসেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়ে ৪১০ রান সংগ্রহ করে প্রথম ইনিংসে ২১০ রানের বড় লিড নেয়।

ইনিংস হার এড়ানোর কঠিন লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কোনো প্রতিরোধ দেখা যায়নি। এই ইনিংসে আউট হওয়া ১০ জন ব্যাটসম্যানের সবাই ক্যাচ তুলে দিয়ে field ছেড়েছেন, যার সিংহভাগই ছিল অনর্থক খোঁচা মেরে দেওয়া ক্যাচ। দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হকের ৬১ রানের চতুর্থ উইকেট জুটিটিই ছিল সর্বোচ্চ প্রতিরোধ। দলের কোনো ব্যাটসম্যানই ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরির দেখা পাননি এবং দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন মুশফিকুর রহিম। ফলে ইনিংস পরাজয় এড়ানোর ধারের কাছেও যেতে পারেনি বাংলাদেশ। সর্বশেষ পাঁচ টেস্টের চারটিতেই জিতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা দলটির জন্য এই হার একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী আগস্ট মাসে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে বাংলাদেশের পরবর্তী টেস্ট সিরিজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।