বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। দেশটির রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমার দিসানায়কে ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে প্রতি বুধবার সারা দেশে সরকারি ছুটি থাকবে। এর ফলে সপ্তাহে মাত্র চার দিন অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। রাষ্ট্রপতি জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক এবং সবাইকে আরও খারাপ সময়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে, যদিও একই সাথে তিনি আশাবাদী থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সরকার বুধবারকে ছুটির দিন হিসেবে বেছে নিয়েছে যাতে সপ্তাহের মাঝখানে বিরতি দিয়ে অফিস কার্যক্রম সচল রাখা যায় এবং টানা তিন দিন বন্ধের ধকল এড়ানো যায়। তবে জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে হাসপাতাল, পুলিশ ও অভিবাসন বিভাগের মতো জরুরি সেবাগুলো এই ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
জ্বালানি ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে লঙ্কান সরকার আবারও 'জাতীয় জ্বালানি পাস' পদ্ধতি ফিরিয়ে এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য সপ্তাহে মাত্র ১৫ লিটার এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৫ লিটার তেল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যদিও অনেক নাগরিক এই পরিমাণকে প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সামান্য বলে মনে করছেন, তবুও ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকটের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সরকার এই কঠোর রেশন ব্যবস্থা কার্যকর করেছে। মূলত ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বোমাবর্ষণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে।
শুধু শ্রীলঙ্কাই নয়, এশিয়ার আরও বেশ কয়েকটি দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন কৌশলী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশে পরিকল্পিত লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছে। থাইল্যান্ডে বিদ্যুৎ খরচ কমাতে নাগরিকদের হালকা পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে এসির ব্যবহার কমানো যায়। মিয়ানমারে তেলের চাহিদা নিয়ন্ত্রণে গাড়ি কেবল বিকল্প দিনে ব্যবহার করার কঠোর নিয়ম চালু হয়েছে। অন্যদিকে ফিলিপাইন সরকার তাদের কর্মীদের সপ্তাহে একদিন বাড়ি থেকে কাজ করার বা 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' নির্দেশ দিয়েছে। ভিয়েতনামেও জনগণকে অপ্রয়োজনে গাড়ি ব্যবহার না করে ঘরে থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ধাক্কা লেগেছে, তার সরাসরি প্রভাব এখন দক্ষিণ এশিয়াসহ পুরো মহাদেশের জনজীবনে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।