১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:৪২:৪৩ অপরাহ্ন


‘হরমুজ বন্ধ করে দেখো, তোমাদের দেশের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না’: ইরানকে ট্রাম্পের তীব্র হুমকি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৬-২২ ১৩:১৩:২৯
‘হরমুজ বন্ধ করে দেখো, তোমাদের দেশের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না’: ইরানকে ট্রাম্পের তীব্র হুমকি


তেহরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণার পর ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার তীব্র হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চলমান শান্তি চুক্তি ভেস্তে গেলে আমেরিকা হরমুজ প্রণালির পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেবে। সেইসঙ্গে তেল পরিবহনের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথের 'গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল' বা রক্ষাকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়ে এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করা ক্রুড তেলের ২০ শতাংশ তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেবে। লেবাননে ইসরায়েলের লাগাতার হামলার জেরে ইরান এই কৌশলগত নৌপথ বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর ট্রাম্প গোটা ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার এই পাল্টা হুমকি দেন এবং স্পষ্ট জানান যে, এই নৌপথের কার্যকর নিয়ন্ত্রক হতে চলেছে একমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

সাক্ষাৎকারে ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইংস্টকে ট্রাম্প জানান, আগের রাতেই তিনি ইরানিদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রণালি বন্ধ করলে আমেরিকা তাদের ‘উড়িয়ে দেবে’ বলে সতর্ক করেছেন। সাংবাদিক ট্রে ইংস্টের বরাতে জানা যায়, ট্রাম্প তেহরানের উদ্দেশ্যে বলেছেন, "প্রণালি বন্ধ করে দেখো, তোমাদের দেশের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। তোমরা আর দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগও পাবে না"। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন, প্রয়োজন পড়লে তাঁরা প্রণালিটি দখল করে নেবেন এবং ইরান চুক্তি না করলে মার্কিন প্রশাসনই ওখান থেকে টোল আদায় করবে। এই ফোনালাপের মাঝেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের একটি মন্তব্য ট্রাম্পকে জানানো হয়, যেখানে পেজেশকিয়ান বলেছিলেন যে ইরান কোনোভাবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার ছাড়বে না। এর জবাবে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, "ওনার মুখ সামলে কথা বলা উচিত। তাঁর উচিত নিজেকে শুধরে নেওয়া। নইলে আমরা ওদের বাকি দেশটাও দখল করে নেব"।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার তীব্র সংঘাতের জেরে গত সপ্তাহেই আমেরিকা-ইরান সমঝোতা চুক্তি প্রায় ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, যার পর ট্রাম্পের এই নতুন হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও চরম উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সুইজারল্যান্ডে যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম দফার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক চলছে, ঠিক তখনই তেহরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য করলেন। টেলিভিশন সাক্ষাৎকার ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তেহরানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প এক পোস্টে লেখেন, লেবাননে ইরানের উচ্চ বেতনভোগী প্রক্সিরা যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ইরানের ওপর আবারও অত্যন্ত কঠোর হামলা চালানো হবে, যা চলতি মাসের শুরুতে তাঁর নির্দেশে চালানো হামলার চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ হবে।