১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:০৫:৩৮ অপরাহ্ন


এসি বাসে ইমার্জেন্সি ডোর স্থাপন ও নন-এসির রড অপসারণের নির্দেশ
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-৩০ ১৮:১০:২৫
এসি বাসে ইমার্জেন্সি ডোর স্থাপন ও নন-এসির রড অপসারণের নির্দেশ ছবি: সংগৃহীত


গণপরিবহনে সড়ক দুর্ঘটনা পরবর্তী প্রাণহানি কমিয়ে আনতে বাসের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংস্থাটির পক্ষ থেকে জারি করা এক বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তিতে এসি বাসে জরুরি বহির্গমন পথ নিশ্চিত করা এবং নন-এসি বাসের জানালা থেকে সমান্তরাল স্টেইনলেস স্টিলের রড অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত দুর্ঘটনার কবলে পড়া বাস থেকে যাত্রীরা যাতে দ্রুত ও নিরাপদে বের হতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএ-র পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সড়ক বা মহাসড়কে দুর্ঘটনা, ফেরিঘাট পারাপার কিংবা রেলক্রসিং অতিক্রমের সময় বাস দুর্ঘটনায় পড়লে অধিকাংশ ক্ষেত্রে যাত্রীরা দ্রুত বের হতে না পারার কারণে নিহতের সংখ্যা বাড়ে। বিশেষ করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের দরজা ও জানালাগুলো পুরোপুরি আবদ্ধ থাকায় যাত্রীরা ভেতরে আটকা পড়েন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিআরটিএ নির্দেশ দিয়েছে যে, প্রতিটি এসি বাসে স্পষ্ট ও দৃশ্যমানভাবে 'জরুরি বহির্গমন' বা 'ইমার্জেন্সি ডোর' চিহ্নিত থাকতে হবে। একই সাথে জানালার গ্লাস ভেঙে ফেলার জন্য বাসের ভেতর এক বা একাধিক উপযুক্ত সরঞ্জাম বা হাতুড়ি রাখতে হবে, যা বিপদের সময় যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে সহায়ক হবে।

অন্যদিকে, সাধারণ বা নন-এসি বাসের জানালার মাঝ বরাবর পর্দার জন্য ব্যবহৃত স্টেইনলেস স্টিলের রডগুলোকে প্রাণহানির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই রডগুলো জানালার মাঝখানে থাকায় দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের পক্ষে জানালা দিয়ে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে অতি দ্রুত এসব রড অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট মোটরযান মালিক ও চালকদের এই নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মূলত জীবন রক্ষার সম্ভাবনা বাড়াতে এবং যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও মানবিক ও নিরাপদ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।