১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:৩২:১৮ অপরাহ্ন


ইরান যুদ্ধের আশঙ্কায় বিশ্ব তেলের বাজারে ধস: ব্যারেল প্রতি জ্বালানির দাম রেকর্ড উচ্চতায়!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৮ ১৯:৫৪:২৯
ইরান যুদ্ধের আশঙ্কায় বিশ্ব তেলের বাজারে ধস: ব্যারেল প্রতি জ্বালানির দাম রেকর্ড উচ্চতায়!


মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনীভূত হতে থাকা যুদ্ধের কালো মেঘ সরাসরি আঘাত হেনেছে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে। আজ মঙ্গলবার লন্ডনের আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে এই অস্থিরতা শুরু হয়েছে।


ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের মাইলফলক ছোঁয়ার পথে

বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি ইরান সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে তেলের দাম খুব দ্রুতই প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আজ একদিনেই অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। গোল্ডম্যান স্যাকস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলে সামান্যতম বিঘ্ন ঘটলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরণের মুদ্রাস্ফীতির ঢেউ তুলবে।

হরমুজ প্রণালী: কেন এই আতঙ্ক?

ইরান বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক এবং বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে। তেহরান যদি যুদ্ধের প্রেক্ষিতে এই জলপথ বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এক ধাক্কায় ২০% কমে যাবে। এই আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের রুট পরিবর্তন করতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ও দুশ্চিন্তা

বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদরা এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে বাংলাদেশেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, পরিবহন ভাড়ার উর্ধ্বগতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সরকারের ভর্তুকি বাজেটেও এর ফলে বিশাল চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

বিশ্লেষক মন্তব্য

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম তামিম বলেন, “তেলের বাজার এখন সম্পূর্ণভাবে ভূ-রাজনৈতিক খবরের ওপর নির্ভর করছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আগেই যে দাম বাড়ছে, তা মূলত ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কজনিত ক্রয়। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।”