১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:২১:৫৬ অপরাহ্ন


বাংলাদেশের ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৯-২৯ ১৪:৩১:৪৯
বাংলাদেশের ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প I ছবি: সংগৃহীত


যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের তালিকা প্রকাশ; বাংলাদেশসহ ২০টি দেশের বিশেষায়িত ও বিরল রোগের ওষুধে শূন্য শুল্ক সুবিধা

         বাণিজ্য ও বৈশ্বিক রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট স্বস্তির খবর নিয়ে এল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২০টি দেশ ও অঞ্চল থেকে আমদানিকৃত বিশেষায়িত ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের (শূন্য শুল্ক) আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি (বিআইএস) প্রকাশিত এক সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করে এই সুবিধাভোগী তালিকার কথা নিশ্চিত করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বিআইএস প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তালিকাভুক্ত দেশগুলো থেকে নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ শ্রেণির বিশেষায়িত ওষুধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আমদানি শুল্ক দিতে হবে না। এই শূন্য শুল্কের আওতায় পড়া পণ্যের তালিকায় প্রধানত রয়েছে— বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ (Orphan Drugs), নিউক্লিয়ার মেডিসিন, উন্নত রক্তরস (প্লাজমা) থেকে প্রস্তুতকৃত চিকিৎসাসামগ্রী, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বায়োলজিক্যাল ওষুধ, অত্যাধুনিক সেল ও জিন থেরাপি এবং অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেট।

এছাড়াও বৈশ্বিক জরুরি পরিস্থিতিতে রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রাণীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল বা উৎপাদনে ব্যবহৃত উপাদানও এই শতভাগ শুল্ক ছাড়ের সুবিধা পাবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড'-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এই শূন্য শুল্ক সুবিধার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক শর্ত যুক্ত রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশে নির্ধারিত শর্তানুসারে, কেবল সেইসব দেশ বা অঞ্চলের পণ্যই এই সুবিধা পাবে, যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সক্রিয় বাণিজ্য ও নিরাপত্তা চুক্তি বলবৎ রয়েছে অথবা নিকট ভবিষ্যতে কার্যকর হতে যাচ্ছে। কিংবা পণ্যটি যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা চাহিদা মেটাতে অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়।

মার্কিন তালিকায় বাংলাদেশের সাথে এই শতভাগ শুল্ক ছাড়ের সুবিধা পাওয়া অন্য ১৯টি দেশ ও অঞ্চল হলো— ভারত, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনাম।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নির্ধারিত এই বিশেষ শূন্য শুল্ক শ্রেণির বাইরে থাকা সাধারণ পেটেন্টযুক্ত ব্র্যান্ডের ওষুধের ক্ষেত্রে পূর্বঘোষিত ১০০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক বহাল থাকবে, যদি না সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো বিশেষ শুল্ক সুবিধা আইনের অধীনে ছাড় পায়।

তবে বাংলাদেশের মূল শক্তিস্থল অর্থাৎ 'জেনেরিক' (Generic Drugs) ওষুধের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা ভিন্ন ও স্বস্তিদায়ক। বাণিজ্যিক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাধারণ জেনেরিক ওষুধ এবং এর কাঁচামাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেকশন ২৩২ (Section 232)-এর অধীনে আরোপিত বাড়তি শুল্ক আইনের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।