১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:৩৮:০১ অপরাহ্ন


সুদীপের সঙ্গে ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন মিমো-হানি
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৮ ১৫:১১:১০
সুদীপের সঙ্গে ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন মিমো-হানি ছবি: সংগৃহীত


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় অভিযুক্ত সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী ইকবাল হোসেন আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন।

মামলার বিবরণী ও বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, মিমো ও শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীর মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বিভাগে দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিমোর এক সহপাঠী জানান, মিমো পড়াশোনা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের একটি ব্যক্তিগত থিয়েটার গ্রুপ ছিল, যার মাধ্যমে তিনি মিমো ও তার বান্ধবী উম্মে হানিকে ইংল্যান্ডেও নিয়ে গিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিদেশ সফরের সময় থেকেই তাদের সম্পর্কের মধ্যে জটিলতার সূত্রপাত ঘটে। উদ্ধারকৃত সুইসাইড নোট এবং মোবাইল ফোনের কথোপকথনের স্ক্রিনশট থেকে এই সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং প্ররোচনার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

আদালতে শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী ফুল মোহাম্মদ সুদীপ চক্রবর্তীর জামিন আবেদন করে দাবি করেন যে, তিনি একজন স্বনামধন্য শিক্ষক এবং এই ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না; তাকে কেবল হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে জানায়, প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার সঙ্গে শিক্ষকের জড়িত থাকার যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসামির সঠিক পরিচয় যাচাইয়ের স্বার্থে তাকে জেলহাজতে রাখা একান্ত প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত রবিবার সকালে বাড্ডার নিজ বাসা থেকে মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় মিমোর বাবা বাদী হয়ে শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে পুলিশ মিমোর বান্ধবী উম্মে হানির ভূমিকা এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করে যাচ্ছে। মিমোর আকস্মিক মৃত্যু ও প্রিয় শিক্ষকের এমন অভিযোগে গ্রেফতারের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।