১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০২:০৬:১৪ পূর্বাহ্ন


অন্যের সাফল্যে মন খারাপ হয় কেন?
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৫ ১৬:৪৭:৪৭
অন্যের সাফল্যে মন খারাপ হয় কেন? ছবি: সংগৃহীত


আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক সংকটের নাম ‘প্যারাসোশ্যাল জেলাসি’। প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করতে করতে আমরা এমন অনেকের জীবনযাত্রা, সাফল্য কিংবা হাসি দেখে ফেলি, যাদের সঙ্গে বাস্তবে আমাদের কোনো জানাশোনা নেই। তবুও মনের অজান্তে তাদের সেই চাকচিক্যময় জীবনের সঙ্গে নিজের সাধারণ জীবনের তুলনা করতে গিয়ে এক ধরনের অস্বস্তি বা হিংসার অনুভূতি তৈরি হয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এটি মূলত একতরফা মানসিক সম্পর্কের একটি নেতিবাচক দিক, যা মানুষকে এক অদৃশ্য ও অসুস্থ প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

প্যারাসোশ্যাল জেলাসি বা একতরফা ঈর্ষার এই অনুভূতি সাধারণত সেলিব্রিটি, ইনফ্লুয়েন্সার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রতি তৈরি হয়। যখন একজন ব্যবহারকারী নিয়মিত কাউকে ফলো করেন, তখন তিনি অবচেতনভাবেই ওই ব্যক্তির জীবনের ওপর নিজের দখলদারি কল্পনা করতে শুরু করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ সাধারণত তার জীবনের সেরা এবং সুসজ্জিত অংশটুকুই তুলে ধরে, যা দেখে সাধারণ ব্যবহারকারীরা মনে করেন ওই ব্যক্তির জীবন নিখুঁত। অথচ নিজের জীবনের কঠিন বাস্তব ও প্রতিদিনের ছোটখাটো লড়াইয়ের সঙ্গে সেই সাজানো মুহূর্তগুলোর তুলনা করতে গিয়ে এক গভীর হতাশা জন্ম নেয়। এই মানসিক ফাঁদ চেনার উপায় হলো নির্দিষ্ট কারো প্রোফাইল বারবার চেক করা, তার স্টাইল বা লাইফস্টাইল অনুকরণ করার আপ্রাণ চেষ্টা করা এবং নিজের অর্জনের চেয়ে অন্যের সাফল্যকে বড় করে দেখে হীনম্মন্যতায় ভোগা।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন যে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মানুষের আত্মবিশ্বাস তলানিতে গিয়ে ঠেকতে পারে। এর ফলে নিজের জীবনের প্রতি তীব্র অসন্তুষ্টি তৈরি হয় এবং মানসিক অস্থিরতা ও উদ্বেগ বেড়ে যায়। অনেকে একে ‘অনুপ্রেরণা’ বলে ভুল করলেও বাস্তবে এর ভিত্তি নিজের লক্ষ্য নয়, বরং অন্যের জীবনের ছায়া। সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, আপনি যার সঙ্গে এই অদৃশ্য যুদ্ধে লিপ্ত, তিনি হয়তো আপনার অস্তিত্ব সম্পর্কেই জানেন না। এই একতরফা প্রতিযোগিতা মানুষকে বাস্তব জীবনের সম্পর্ক ও সামাজিকতা থেকেও বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।

তবে এই মানসিক চাপ থেকে মুক্তির পথও বাতলে দিয়েছেন মনোবিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় নির্দিষ্ট করা এবং অকারণে স্ক্রলিং কমিয়ে আনা এর প্রাথমিক সমাধান। নিজের বাস্তব জীবনের লক্ষ্য, ছোট ছোট অর্জন এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর ওপর গুরুত্ব দিলে ভার্চুয়াল জগতের এই নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। ডিজিটাল জগতকে জীবনের মাপকাঠি না বানিয়ে বরং নিজের সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং মাঝেমধ্যে ‘সোশ্যাল মিডিয়া ডিটক্স’ বা বিরতি নেওয়া মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর। সচেতনতাই পারে এই ডিজিটাল ঈর্ষার দেয়াল ভেঙে মানুষকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে।