ইউটিউবে ৫১ লাখ ভিউ পেলেও ‘পথের সাথীকে চিনে নিও’ নাটকের ইউএনও ও পদবি বিভ্রাট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসির খোরাক
ছোট পর্দার পরিচিত মুখ মুশফিক আর ফারহান ও অর্চিতা স্পর্শিয়া অভিনীত নতুন নাটক ‘পথের সাথীকে চিনে নিও’ দেখতে বসে প্রেমের রোমান্টিক আবহে ডুবে গিয়েছিলেন সাধারণ দর্শকেরা। তবে গল্প যত সামনে গড়িয়েছে, ততই নাটকের প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট, বিসিএস ক্যাডার পদবি এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) প্রশাসনিক ধাপ নিয়ে বড় ধরনের নানা ভুল চোখে পড়েছে সচেতন দর্শক ও নেটিজেনদের।
জুবায়ের ইবনে বকরের পরিচালনায় তৈরি নাটকটি গত ১০ সেপ্টেম্বর স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ‘বাংলাভিশন’-এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পায়। চালুর কয়েক দিনেই নাটকটি ৫১ লাখেরও বেশি ভিউ পেয়ে ট্রেন্ডিং তালিকায় স্থান করে নিলেও, নাটকের মূল গল্প ও তথ্যগত ভুল নিয়ে এখন প্রশংসার পাশাপাশি নেটপাড়ায় বইছে তীব্র সমালোচনার ঝড়।
শাহজাহান সৌরভের গল্পে নির্মিত এই নাটকে ‘মইন খান’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মুশফিক আর ফারহান। নাটকের গল্পে দেখা যায়, দরিদ্র মইনের সঙ্গে প্রেমিকার বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে কঠোর অধ্যাবসায় দিয়ে বিসিএস ক্যাডার হয়ে প্রথম দিনই সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা সহকারী কমিশনারের মতো শিক্ষানবিস ধাপ পার না করে সরাসরি ‘উপজেলা নির্বাহী অফিসার’ (ইউএনও) পদে পদায়ন ও যোগদান করেন তিনি।
সমালোচনার মূল সূত্রপাত এখান থেকেই। সচেতন দর্শকদের একাংশ সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, এই ধরনের চিত্রনাট্য বাস্তব প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না। প্রশাসন ক্যাডারে প্রবেশের পর মাঠ পর্যায়ে সহকারী কমিশনার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সিনিয়র সহকারী সচিবের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও ধাপ পেরিয়ে তবেই একজন কর্মকর্তা ইউএনও পদমর্যাদা লাভ করেন।
বিতর্ক কেবল ইউএনও পদেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; নাটকের সংলাপে ও দৃশ্যে মইনের পদবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘অ্যাসোসিয়েট ম্যাজিস্ট্রেট’ (Associate Magistrate)। দর্শকদের অভিযোগ, বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিস কিংবা বিচার বিভাগে এই নামে কোনো পদবির অস্তিত্বই নেই। পাশাপাশি ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ প্রশাসনিক এলাকা উত্তরাকে নাটকের সরকারি নামফলকে ‘উত্তরা উপজেলা’ হিসেবে ফুটিয়ে তোলা নিয়েও প্রশ্ন ও কৌতুক শুরু হয়েছে।
নাটকের এই প্রশাসনিক ভুল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও কৌতুকভরা নানা ট্রোল ও মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা। নাট্যপ্রেমীদের একাংশ নির্মাতাদের ন্যূনতম তথ্য যাচাই-বাছাই বা রিচার্জ করার পরামর্শ দিয়ে লিখেছেন, "নাটক বানানোর আগে বিসিএস প্রশাসন বা সরকারি পদবি সম্পর্কে বেসিক ধারণা থাকা উচিত ছিল।" আবার অনেকে কটাক্ষ করে কমেন্ট করেছেন, "এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দিন শেষ, নতুন যুগের নতুন পদবি অ্যাসোসিয়েট ম্যাজিস্ট্রেট!"
তবে নাটকটি ঘিরে নেটদুনিয়ায় চলা এসব সমালোচনা ও হাসাহাসি নিয়ে এখনও পর্যন্ত পরিচালক জুবায়ের ইবনে বকর কিংবা অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, এই নাটকে ফারহান ও স্পর্শিয়া ছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়নাল জ্যাক, মিলি বাসার ও আরকে রেজা।