১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:৩০:৪৪ অপরাহ্ন


খালি পায়ে হাঁটার উপকারিতা কি?
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৭ ১৫:৫০:২৩
খালি পায়ে হাঁটার উপকারিতা কি? ছবি: সংগৃহীত


খালি পায়ে হাঁটা বর্তমান সময়ে অনেকের কাছে কেবল একটি অভ্যাস নয়, বরং স্বাস্থ্য সচেতনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সভ্যতার শুরুর দিকে মানুষ শতাব্দীর পর শতাব্দী খালি পায়েই চলাফেরা করত, যা ছিল প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এক নিবিড় সংযোগ। বর্তমানে ঘাস বা মাটির ওপর খালি পায়ে হাঁটা বা ব্যায়াম করার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইমিউনোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি পায়ে হাঁটা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ নানা শারীরিক সুফল বয়ে আনতে পারে। মানবদেহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের সঙ্গে পায়ের স্নায়বিক সংযোগ রয়েছে, ফলে খালি পায়ে হাঁটার সময় যে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়, তা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্ষমতা সচল রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে নরম বা ভেজা ঘাসের ওপর হাঁটা মানসিক চাপ কমাতে দারুণ কার্যকর, যা শিশু ও বয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শিশুদের পায়ের গঠন ঠিক রাখতে এবং 'ফ্ল্যাট ফুট' হওয়া প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

তবে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন এই অভ্যাসের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতার কথা উল্লেখ করেছে। ঘাস, পাথর বা অসমতল মাটিতে হাঁটার সময় পায়ের তলায় ক্ষত বা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে। বিশেষ করে প্রতিকূল পরিবেশে হাঁটলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করার সম্ভাবনা থাকে। এ কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে খালি পায়ে হাঁটার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন, কারণ সামান্য ক্ষত থেকেও তাদের বড় ধরনের স্বাস্থ্য জটিলতা তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, হুট করেই দীর্ঘক্ষণ খালি পায়ে না হেঁটে শুরুতে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট করে অভ্যাস করা উচিত। শরীরের সার্থকতা ও সহনশীলতা বুঝে ধীরে ধীরে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে। সঠিক স্থান নির্বাচন এবং যথাযথ সতর্কতা মেনে এই প্রাচীন অভ্যাসটি আয়ত্ত করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি পাওয়া সম্ভব।