১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০১:১৮:২৫ পূর্বাহ্ন


সংসদের সাউন্ড সিস্টেম মেরামতে কোটি টাকা লোপাট: দুদকের জালে জাহিদুর রহিম জোয়ারদার
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-০৯ ১৯:৩১:০৮
সংসদের সাউন্ড সিস্টেম মেরামতে কোটি টাকা লোপাট: দুদকের জালে জাহিদুর রহিম জোয়ারদার


জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষ বা প্ল্যানারি হলের সাউন্ড সিস্টেম পরিচালনা, মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণের নামে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগের কেন্দ্রে যারা

দুদকের অনুসন্ধানের মূল লক্ষ্য ‘কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড’-এর সিইও জাহিদুর রহিম জোয়ারদার। তিনি সাবেক চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের আত্মীয় হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন সংসদ ভবনের ‘এসআইএস’ (SIS) সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন।

যেভাবে হয়েছে অনিয়ম

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি ‘ওভার ইনভয়েসিং’ বা প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দাম দেখিয়ে সরকারি অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। অনুসন্ধানে উঠে আসা উল্লেখযোগ্য তথ্যগুলো হলো:

  • অস্বাভাবিক বিল: ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ক্ষতিগ্রস্ত সিস্টেম পরীক্ষার নামেই প্রকৌশলীদের যাতায়াত ও সম্মানি বাবদ ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

  • বিশাল প্রাক্কলন: পুরো সিস্টেম মেরামতের জন্য প্রায় ৪ কোটি টাকার একটি উচ্চমূল্যের প্রাক্কলন জমা দেওয়া হয়েছিল।

  • স্বাস্থ্য খাতেও থাবা: একই কৌশলে স্বাস্থ্য খাতের চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটাতেও কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক।

দুদকের কঠোর পদক্ষেপ

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক প্রবীর কুমার দাসকে এই মামলার অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে গণপূর্ত অধিদফতরের কাছে চার ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তলব করা হয়েছে:

  1. মেরামত ও সংস্কারের কার্যাদেশ ও টেন্ডার সংক্রান্ত সব রেকর্ড।

  2. প্রশাসনিক অনুমোদন ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির রেজুলেশন।

  3. বিল পরিশোধের ভাউচার ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন।

  4. সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই কীভাবে তারা কাজ পেয়েছিল এবং সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছিল—সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।