১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০১:৫৭:৫৪ পূর্বাহ্ন


তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষিদ্ধের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে থালাপতি বিজয়ের সরকার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-০১ ১৯:৫১:২১
তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষিদ্ধের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে থালাপতি বিজয়ের সরকার ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। ফাইল ছবি


ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে গরু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে রাজ্য সরকার। অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন ‘টিভিকে’ সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি উপস্থাপন করে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুতে গরু জবাই সংক্রান্ত যে আইনটি বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে, হাইকোর্টের দেওয়া সাম্প্রতিক রায়টি তার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। বুধবার (১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতির স্বার্থে ১৯৭৬ সালে জারি করা একটি সরকারি আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেন মাদ্রাজ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রাজ্যজুড়ে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। উচ্চ আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ অনুমতি আবেদন (স্পেশাল লিভ পিটিশন) দায়ের করেছে তামিলনাড়ুর টিভিকে সরকার। আবেদনে বলা হয়েছে, গরু জবাইয়ের ওপর সামগ্রিক বা ঢালাও নিষেধাজ্ঞা জারি করে মাদ্রাজ হাইকোর্ট আইনের নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাজ্য সরকারের দাবি, উচ্চ আদালত তার সুনির্দিষ্ট এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে রাজ্যের আইনসভার কাজে হস্তক্ষেপ করেছে, যার ফলে এই রায়ে আইনি অসংগতি তৈরি হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা আবেদনে বিজয়ের সরকার উল্লেখ করেছে, হাইকোর্টের এই নির্দেশটি মূলত ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮’-এর পরিপন্থি। ওই প্রচলিত আইনে স্পষ্ট বলা রয়েছে, ১০ বছরের বেশি বয়সী যেসব গরু বা বাছুর কোনো কাজ করতে কিংবা প্রজননে পুরোপুরি অক্ষম, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমতি সাপেক্ষে কেবল সেই সমস্ত পশু জবাই করা যেতে পারে। গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চের আদেশকে কেন্দ্র করে এই আইনি বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বিচারপতি জি আর স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তাঁদের আদেশে বলেন, পশু জবাই কেবল অনুমোদিত কসাইখানাতেই সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে ইসলামের পবিত্র ঈদুল আজহাসহ (কোরবানি ঈদ) অন্য যেকোনো দিন যেন অবৈধভাবে গরু ও বাছুর জবাই না হয়, তা ঠেকাতে রাজ্যের মুখ্য সচিব ও জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

মূলত তামিলনাড়ুর কট্টরপন্থি ও হিন্দুত্ববাদী political party ‘ইন্দু মাক্কাল কাচ্চি’-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সূর্যের করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাজ হাইকোর্ট এই আদেশ দিয়েছিলেন। ওই আবেদনে প্রকাশ্যে ও অবৈধভাবে গরু জবাই বন্ধে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। মামলার শুনানির সময় হাইকোর্ট ভারতীয় সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করেন, যেখানে গরু, বাছুর এবং দুধ উৎপাদন ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত পশু জবাই রোধে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী কয়েকটি রায়ের বরাত দিয়ে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দেন যে, কোরবানি ঈদে গরু কোরবানি করা ইসলামের কোনো অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশাসন বা বাধ্যতামূলক উপায় নয়। তবে তামিলনাড়ু সরকার এই সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা বাতিলের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে প্রচলিত আইনের অধিকার পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে।