১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০১:৫৮:১৬ পূর্বাহ্ন


স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা: ২ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী
আদালত প্রতিবেদক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৬-৩০ ১৭:১০:১৩
স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা: ২ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী জাহের আলভী I ছবি: সংগৃহীত


 স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে যাহের আলভীকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) শুনানির পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত এই নির্দেশ প্রদান করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আজ আদালতে যাহের আলভীর পক্ষে নতুন করে কোনো জামিন আবেদন পেশ করা হয়নি। ফলে রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাঁকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে, দুই দিনের রিমান্ড শেষে যাহের আলভীকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মিরপুর বিভাগের পরিদর্শক মো. আবদুল মালেক। একই সাথে তদন্তের স্বার্থে আসামিকে কারাগারে আটকে রাখার জন্য আদালতে লিখিত আবেদন জানান তিনি। তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন আসামির কাছ থেকে এই মামলার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার সঠিক তদন্তে অত্যন্ত সহায়ক হবে। এ ছাড়া প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে আসামির সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। যেহেতু মামলার তদন্ত এখনো চলমান, তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছিলেন ছোট পর্দার এই অভিনেতা। তবে শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ২১ জুন মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পুলিশ তাঁকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানালে, গত ২৪ জুন আদালত তাঁর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, যাহের আলভী ও ইকরা ২০১০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং তাঁদের সংসারে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। এর আগে গত ৪ জুন এই মামলার অন্যতম আসামি যাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছিলেন।

মামলার এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে যাহের আলভীর স্ত্রী ইকরাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইকরাকে মৃত ঘোষণা করেন। ইকরার মৃত্যুর সময় অভিনেতা যাহের আলভী রাষ্ট্রীয় বা ব্যক্তিগত কারণে নেপালে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার ওই রাতেই ইকরার বাবা কবির হায়াত খান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় যাহের আলভীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ এবং বিভিন্ন সময়ে ইকরার ওপর হওয়া মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণেই তিনি পরিশেষে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।