১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:২০:৩৫ অপরাহ্ন


বিশ্বকাপের হাফটাইমে পারফর্ম করে বিটিএস, শাকিরা, ম্যাডোনারা কি পারিশ্রমিক পেলেন?
ক্রীড়া প্রতিবেদক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-২১ ১৬:১৩:৩৮
বিশ্বকাপের হাফটাইমে পারফর্ম করে বিটিএস, শাকিরা, ম্যাডোনারা কি পারিশ্রমিক পেলেন? ছবি: সংগৃহীত


সুপার বোলের আদলে ২৭ মিনিটের বিতর্কিত মেগা হাফটাইম শো; কোটি কোটি ডলার মূল্যের মঞ্চে এক ডলারও নেননি কে-পপ ও লাতিন তারকারা

 বিশ্বকাপ ফুটবলের মেগা ফাইনাল মানেই পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ক্রীড়া আসরের পরম আরাধ্য শেষ মহারণ। কোটি কোটি চোখ স্থির হয়ে থাকে টেলিভিশনের পর্দায়। তবে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল শুধু স্পেনের ঐতিহাসিক শিরোপা জয় বা আর্জেন্টিনার স্বপ্নভঙ্গের জন্যই নয়, ক্রীড়া ইতিহাসে পুরোপুরি এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেও স্মরণীয় হয়ে রইল। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে এনএফএলের (NFL) বিখ্যাত ‘সুপার বোল’-এর আদলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে যুক্ত করা হয়েছিল এক জাঁকজমকপূর্ণ ‘হাফটাইম শো’। আর সেই ঐতিহাসিক মঞ্চে একসঙ্গে আলো ছড়িয়েছেন পপসংগীতের সম্রাগ্রী ম্যাডোনা, লাতিন গ্ল্যামার শাকিরা, কানাডীয় পপ তারকা জাস্টিন বিবার এবং বিশ্বজোড়া জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস (BTS)। সঙ্গে ছিলেন জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘টেড ল্যাসো’র তারকা জেসন সুডেইকিস, ব্রেন্ডন হান্ট এবং শিশুদের প্রিয় অ্যানিমেটেড চরিত্র ‘দ্য মাপেটস’।

বিশ্বের তাবৎ মহাতারকাদের এমন একটি মঞ্চে একই সাথে পারফর্ম করতে দেখে সাধারণ দর্শকদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জেগেছিল—কত কোটি ডলার পারিশ্রমিক গুনতে হয়েছে ফিফাকে? কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও বিনোদন সাময়িকী ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে উন্মোচিত হয়েছে এক অবিশ্বাস্য সত্য। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই বিনোদন মঞ্চে পারফর্ম করার বিনিময়ে এই তারকাদের কেউই একটি ডলারও পারিশ্রমিক হিসেবে গ্রহণ করেননি!

উল্লেখ্য, আমেরিকান ক্রীড়া সংস্কৃতির অন্যতম আইকনিক অংশ হলো হাফটাইম শো, যেখানে অতীতে মাইকেল জ্যাকসন, প্রিন্স, বিয়ন্সে, রিহানা কিংবা লেডি গাগার মতো কিংবদন্তিরা মঞ্চ কাঁপিয়েছেন। এবার ৪৮টি দেশের যৌথ বিশ্বকাপকে আমেরিকান ধারায় বৈশ্বিক বিনোদনের রূপ দিতেই ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই মেগা শো-এর সূচনা করেন। তবে স্পেন ও আর্জেন্টিনার রোমাঞ্চকর ফাইনালের বিরতিতে সাধারণ ১৫ মিনিটের পরিবর্তে এই শোর কারণে বিরতির সময় বাড়িয়ে করা হয় প্রায় ২৭ মিনিট। আর তাতেই বাধে বিপত্তি! বিরতির সময় অতিরিক্ত দীর্ঘ করায় অনেক ঐতিহ্যবাহী ফুটবলপ্রেমী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ফুটবল কিংবদন্তি ও তৎকালীন ধারাভাষ্যকার ওয়েন রুনি প্রকাশ্যে এর সমালোচনা করে জানান, এই দীর্ঘ বিনোদন প্রদর্শনীর কারণে ফাইনাল ম্যাচের স্বাভাবিক গতি ও ছন্দ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ব্যক্তিগত কনসার্ট বা বাণিজ্যিক অনুষ্ঠানে শাকারি, জাস্টিন বিবার কিংবা বিটিএসের মতো তারকাদের আনার খরচ যেখানে মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়, সেখানে ফিফার এই ঐতিহাসিক মঞ্চে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা পারিশ্রমিক ছাড়া কেন গাইবেন তাঁরা?

প্রতিবেদনে জানানো হয়, এর পেছনে রয়েছে এক মানবিক উদ্যোগ। আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ‘গ্লোবাল সিটিজেন’-এর সাথে ফিফার যৌথ সামাজিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই আয়োজিত হয়েছিল এই কনসার্টটি। শিল্পীরা স্বেচ্ছায় নিজেদের পারিশ্রমিক ত্যাগ করেছেন, যাতে এই হাফটাইম শোর মাধ্যমে ‘ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’-এর প্রতি বিশ্ববাসীর নজর আকর্ষিত হয়। এই বিশেষ ফান্ডের সংগৃহীত অর্থ বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা এবং তাঁদের ফুটবল অনুশীলনের সুবিধার্থে ব্যবহৃত হবে। ফলে বৈশ্বিক প্রচারণার বিশাল প্ল্যাটফর্ম পাওয়ার পাশাপাশি মানবসেবার মহৎ বার্তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতেই বিনা পারিশ্রমিকে বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চ কাঁপিয়েছেন পপ জগতের এই পরাশক্তিরা।