১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:২৫:১১ অপরাহ্ন


জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির যুক্তি ‘খোঁড়া’, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসির অভিযোগ বদিউল আলম মজুমদারের
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | কুবলাই
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-০৮ ১৯:০০:০০
জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির যুক্তি ‘খোঁড়া’, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসির অভিযোগ বদিউল আলম মজুমদারের সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। ফাইল ছবি


সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই জাতীয় সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত নিয়ে বিএনপি যেসব যুক্তি দিচ্ছে তা অত্যন্ত ‘খোঁড়া’ এবং ভিত্তিহীন। বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘অধ্যাদেশ বাতিল এবং গণভোট অস্বীকারের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের যুগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই কড়া সমালোচনা করেন। ড. বদিউল আলম বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে দেশব্যাপী যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, দেশের সাধারণ জনগণ সেখানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের অনুমোদন দিয়েছে। তাই এই সনদে যা যা উল্লেখ রয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে যে, এই রায় বাস্তবায়নে নানাভাবে গড়িমসি করা হচ্ছে এবং অযৌক্তিক সব তর্কের অবতারণা করা হচ্ছে।

বৈঠকে আলোচনার এক পর্যায়ে সুজন সম্পাদক বিএনপির দেওয়া সাংবিধানিক দোহাইয়ের কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, বর্তমানে একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে যে সনদের বিষয়গুলো বিদ্যমান সংবিধানে নেই। এই যুক্তির বিপরীতে ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, সেটি সেই সময়ের কোনো সংবিধানেই লিখিত ছিল না। এমনকি দায়িত্ব পালন শেষে তার আগের পদে ফিরে যাওয়ার বিষয়টিরও কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি তখন ছিল না। কিন্তু জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী সেটি কার্যকর হয়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের কল্যাণে যখন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো কোনো বিষয়ে একমত হয় এবং জনগণ তা গ্রহণ করে, তখন সংবিধানের দোহাই দিয়ে সেটিকে আটকে রাখা সমীচীন নয়।

নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমতের গুরুত্ব নিয়ে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, যেকোনো সংসদীয় বা বিশেষ কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হয়। তিনি তথ্য তুলে ধরে বলেন যে, এই সনদ প্রণয়নে গঠিত ১৪ সদস্যের সংসদীয় কমিটির মধ্যে ১১ জনই ছিলেন সরকারি দলের এবং ৩ জন ছিলেন বিরোধী দলের। যেহেতু কমিটির অধিকাংশ সদস্য এই সনদে একমত হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে গণভোটে জনগণ সেটিকে বিপুল ব্যবধানে অনুমোদন দিয়েছে, তাই এখন ৩ জন সদস্যের ভিন্নমত বা ‘মাইনরিটি ভিউ’ নিয়ে পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, মেজরিটি বা সংখ্যাগরিষ্ঠের এই সিদ্ধান্তই এখন জাতীয় রায়ে পরিণত হয়েছে এবং এটি নিয়ে বিতর্ক করার আর কোনো অবকাশ নেই।

বক্তব্যের শেষ দিকে ড. বদিউল আলম মজুমদার দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন যে, দেশে যদি আবারও একটি জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা না যায়, তবে আমরা ভয়াবহ সংকটের দিকে ধাবিত হব। এই সংকটের পরিণতি শুধু সাধারণ জনগণকেই ভোগ করতে হবে না, বরং বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছেন বা ভবিষ্যতে আসার স্বপ্ন দেখছেন, তাদেরও এর চরম মূল্য দিতে হবে। তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, গণভোটের রায়কে সম্মান জানিয়ে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়ন করাই হবে বর্তমান সংকট উত্তরণের একমাত্র সঠিক পথ। অন্যথায় সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের যে কালো ছায়া দেশের ওপর দানা বাঁধছে, তা রুখে দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।