আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম আগের মতোই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মূলত সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমাতে এবং উৎপাদন ব্যয় স্থিতিশীল রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত মূল্য তালিকা (এপ্রিল ২০২৬)
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম মার্চ মাসের দরেই অপরিবর্তিত থাকবে:
ডিজেল: ১০০ টাকা (প্রতি লিটার)
কেরোসিন: ১১২ টাকা (প্রতি লিটার)
পেট্রল: ১১৬ টাকা (প্রতি লিটার)
অকটেন: ১২০ টাকা (প্রতি লিটার)
বাজার বিশ্লেষণ ও ব্যবহার
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর তথ্যমতে, দেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন। এর মধ্যে:
ডিজেলের প্রাধান্য: মোট চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশই ডিজেল, যা মূলত কৃষি সেচ, পরিবহন ও জেনারেটরে ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য তেল: বাকি ২৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েল দিয়ে।
লাভের খাত: বিপিসি সাধারণত অকটেন ও পেট্রল বিক্রি থেকে লাভ করে থাকে।
মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি
গত বছরের মার্চ থেকে সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করছে। বর্তমানে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ নির্ধারণ করলেও এলপিজি, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।