১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:৪১:৫৪ অপরাহ্ন


যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা: ইসলামাবাদে বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-২৪ ২১:১১:৪৩
যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা: ইসলামাবাদে বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান!


ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। তবে রণক্ষেত্রের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের সমান্তরালে এখন শুরু হয়েছে ‘পর্দার আড়ালের কূটনীতি’। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের উপায় খুঁজতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে চলতি সপ্তাহেই সরাসরি সংলাপে বসতে পারে ওয়াশিংটন ও তেহরান।

মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ‘ডুয়েল’ ভূমিকা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির—উভয়েই এই শান্তি আলোচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।

  • ট্রাম্প-আসিম মুনির ফোনালাপ: গত রোববার হোয়াইট হাউজ নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের মধ্যে দীর্ঘ সময় ফোনালাপ হয়েছে।

  • শাহবাজ-পেজেশকিয়ান যোগাযোগ: এর পরপরই সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে কথা বলেন। দুই নেতা জরুরি ভিত্তিতে উত্তেজনা প্রশমন ও সংলাপের প্রয়োজনীয়তায় একমত হন।

প্রধান আলোচক কারা?

সূত্রের খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই তাদের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের পাঠানোর কথা ভাবছে:

  • যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance) হতে পারেন ওয়াশিংটনের প্রধান আলোচক। তবে ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার বা বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ব্যাপারে অনীহা জানানো হয়েছে।

  • ইরান: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ (Mohammad Bagher Ghalibaf) তেহরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় নেতৃত্ব দিতে পারেন। যদিও গালিবাফ প্রকাশ্যে এই আলোচনার খবরকে ‘ভুয়া সংবাদ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

কেন ইসলামাবাদ?

শান্তি আলোচনার জন্য কাতার, তুরস্ক বা মিশরের নাম প্রস্তাব করা হলেও ইরানের প্রথম পছন্দ পাকিস্তান। ভৌগোলিক সান্নিধ্য এবং তেহরানের সাথে ইসলামাবাদের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণে ইরান এই স্থানটিকে নিরাপদ মনে করছে। শাহবাজ শরিফ ইতিমধ্যে এক্স-এ (টুইটার) এক বার্তায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্মত হলে পাকিস্তান এই ‘অর্থবহ ও চূড়ান্ত’ আলোচনার আতিথেয়তা দিতে প্রস্তুত।

বর্তমান পরিস্থিতি ও অনিশ্চয়তা

যদিও আলোচনার খবর বাতাসে ভাসছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের তারিখ নিশ্চিত করেনি। ইরানের এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের ওপর তাদের ‘শূন্য ভরসা’ রয়েছে। তা সত্ত্বেও চলমান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ উভয় পক্ষকেই আলোচনার টেবিলে আনতে বাধ্য করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।