১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:৩০:২২ অপরাহ্ন


কোহলির জন্য আনুশকার এক অর্ডারেই বন্ধ হতে বসা রেস্তোরাঁ এখন জমজমাট
বিনোদন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৯-২৭ ১৫:০৫:০৫
কোহলির জন্য আনুশকার এক অর্ডারেই বন্ধ হতে বসা রেস্তোরাঁ এখন জমজমাট ছবি: সংগৃহীত


১৮ লাখ রুপির ঋণ থেকে দুই কোটি রুপির টার্নওভার; আনুশকার সেই এক পোস্টেই ভাগ্যের চাকা ঘুরল জাসপাল-মহিন্দরের ‘দিল্লি সে’-র

      চরম দেনার দায়ে ডুবে থাকা, ব্যর্থতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ব্যবসা একপ্রকার গুটিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত পরিকল্পনা—ঠিক সেই মুহূর্তে কেবল একটি খাবারের অর্ডারে পুরো জীবনের গতিপথ বদলে গেল দুই ভাইয়ের! ভারতের অন্যতম তারকা দম্পতি বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মার এক প্লেট খাবারের একক সিদ্ধান্ত কীভাবে একটি বন্ধ হতে বসা ক্ষুদ্র রেস্তোরাঁকে কোটি কোটি রুপির ব্যবসায়ে রূপান্তর করতে পারে, মুম্বাইয়ের ‘দিল্লি সে’ নামের প্রতিষ্ঠানের অলৌকিক উত্থান যেন সেই সত্যেরই এক অনন্য দলিল।

মুম্বাইয়ের চেম্বুর এলাকার এক ছোট্ট গলি। সেখানে ২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর দুই ভাই জাসপাল সিং খালসা ও মহিন্দর সিং খালসা মিলে মাত্র ২৫০ বর্গফুটের ছোট্ট পরিসরে চালু করেন ‘দিল্লি সে’ নামের এক খাবারের দোকান। ৩টি মাত্র টেবিল আর ৯ জনের বসার সামান্য ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল মুম্বাইয়ে দিল্লির খাঁটি ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ পৌঁছে দেওয়া।

তবে চালুর কয়েক মাস পেরোতেই নামতে থাকে ব্যবসার পারদ। ২০২২ সালের শুরুর দিক থেকেই বিক্রি আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেতে শুরু করে। ফলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি আসতেই দুই ভাই প্রায় ১৮ লাখ রুপির বিশাল ঋণের বোঝায় পড়ে যান। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, বাধ্য হয়ে ব্যবসা সম্পূর্ণ গুটিয়ে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা।

ঠিক সেই সংকটাপন্ন মুহূর্তে ভাগ্যের চাকা হঠাৎ ঘুরিয়ে দেয় জনপ্রিয় স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান অভিষেক উপমন্যুর একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট। সেখানে খেয়ে প্রশংসা করে পোস্ট দেওয়ার পর সাময়িকভাবে সামান্য ক্রেতা বাড়লেও আসল অলৌকিক ঘটনাটি ঘটে কিছুদিন পর। নিজের স্বামী, ভারতীয় ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলির জন্য বাণিজ্য নগরী মুম্বাইয়ে দিল্লির আসল স্বাদের 'ছোলে ভাটুরে' খুঁজছিলেন অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা। অভিষেকের সেই পোস্ট চোখে পড়তেই আনুশকার দল মুম্বাইয়ের চেম্বুর থেকে তাদের কাছে দুই প্লেট খাবারের অর্ডার পাঠায়।

এক প্লেট ছোলে ভাটুরের নির্ধারিত মূল্য ছিল মাত্র ১২০ রুপি। চেম্বুর থেকে অনেক দূরে জুহুতে আনুশকা শর্মার বাসভবনে এই সামান্য খাবারের খাবার পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ পেয়ে প্রথমে বিষয়টিকে প্র্যাঙ্ক বা অনলাইন প্রতারণা বলেই ভুল ভেবেছিলেন জাসপাল। তবে সব সংশয় কাটিয়ে ৫ অক্টোবর দুই ভাই নিজেরাই যত্ন করে খাবার পৌঁছে দেন।

খাবারের স্বাদ গ্রহণে অভিভূত হয়ে আনুশকা শর্মা নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে "একদম দিল্লি জ্যায়সে ছোলে ভাটুরে" শিরোনামে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে একটি পোস্ট দেন। আর সাথে সাথে এই স্বাদের সন্ধান দেওয়ার জন্য কমেডিয়ান অভিষেককেও প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানান তিনি।

আনুশকার কেবল সেই একটি পোস্টের জাদুতে মুহূর্তের মধ্যে রেস্তোরাঁটিতে ক্রেতাদের অভূতপূর্ব ঢল নামে। জাসপালের ভাষ্যমতে, পোস্টের মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে দোকানের সামনে ভিড় জমাতে থাকেন শত শত ভোজনরসিক মানুষ। একেকজন ক্রেতা একসঙ্গে ৬ থেকে ১০ প্লেট পর্যন্ত অর্ডারের হিড়িক তুলে দেন। চাহিদা সামলাতে ২-৩ প্লেট খাবারের জন্য মানুষকে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। অতি ক্ষুদ্র রান্নাঘরে এই বিপুল চাপ সামলাতে বাধ্য হয়ে প্রতিবেশীদের রান্নাঘরের সাহায্য নেন তারা। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ছোলা রান্নার পরিমাণ প্রতিদিন ৮ কেজি থেকে একলাফে ১০০ কেজিতে গিয়ে ঠেকে।

বর্তমানে সেই চেম্বুরের ক্ষুদ্র রেস্তোরাঁটির পরিসর ছাড়িয়ে মুম্বাইয়ের মূল কেন্দ্র মুলুন্দ, আন্ধেরি ওয়েস্ট ও ভাশিতে ‘দিল্লি সে’-র আরও তিনটি আধুনিক নতুন শাখা খোলা হয়েছে। মালিকদের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে চার শাখা মিলিয়ে দৈনিক ৩ হাজারের বেশি প্লেট ছোলে ভাটুরে সফলভাবে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ১২৫ কেজি শুকনো ছোলা ভেজানো হয়, যা রান্নার পর পরিমাণে দাঁড়ায় প্রায় ১ টন!

ব্যবসায়ের ভয়াবহ দুর্দিনে যেখানে পুরো মাসে তাদের টেনেটুনে এক থেকে দেড় লাখ রুপি বিক্রি করাই কঠিন ছিল, সেটি এখন অভূতপূর্বভাবে বেড়ে প্রতি মাসে প্রায় দুই কোটি রুপির কাছাকাছি বাণিজ্য ছুঁয়েছে বলে দাবি করছেন তারা।

(দ্রষ্টব্য: বিক্রি, জমে থাকা ঋণ, দৈনিক খাবার উৎপাদন ও ক্রেতার সার্বিক সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্যাদি রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।)