১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:২৭:৪৩ অপরাহ্ন


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করল মালয়েশিয়া: বিশ্ব অর্থনীতিতে তোলপাড়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-২০ ১৮:০৮:৩১
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করল মালয়েশিয়া: বিশ্ব অর্থনীতিতে তোলপাড় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম,


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির পাল্টা জবাব হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী জোহারি আব্দুল গনি এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে, ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড’ শীর্ষক এই চুক্তিটি এখন থেকে সম্পূর্ণ অকার্যকর এবং এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। খবর নিক্কেই এশিয়ার।

চুক্তির পটভূমি ও বাতিলের কারণ

গত বছরের ২৬ অক্টোবর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মালয়েশীয় পণ্যের ওপর ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিনিময়ে কিছু বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা ছিল ওয়াশিংটনের। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের এই শুল্কনীতি বাতিল করে দিলে চুক্তির আইনি ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সুযোগে প্রথম দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া চুক্তিটি থেকে বেরিয়ে আসার সাহসী সিদ্ধান্ত নিল।

মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা

২০২৫ সালে মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৩৩ বিলিয়ন রিঙ্গিত মূল্যের পণ্য রফতানি হয়েছে। চুক্তি বাতিলের ফলে মালয়েশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কিছু খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে:

  • ইলেক্ট্রনিকস: বৈদ্যুতিক ও ইলেক্ট্রনিকস পণ্য।

  • জ্বালানি: তেল ও গ্যাস শিল্প।

  • কৃষি: পাম তেল ও রাবারভিত্তিক শিল্প।

মন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

মন্ত্রী জোহারি আব্দুল গনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো শুল্ক বসাতে চায়, তবে তা ঢালাওভাবে ‘বাণিজ্য ঘাটতির’ অজুহাতে করা যাবে না। বরং নির্দিষ্ট খাত চিহ্নিত করে যৌক্তিক কারণ দেখাতে হবে। বর্তমানে মার্কিন সরকার ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্ট ব্যবহার করে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ওপর অস্থায়ীভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছে, যা আগামী ১৫০ দিন বলবৎ থাকবে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন বার্তা

জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি মেনে নিলেও মালয়েশিয়ার এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন আদালতের রায়ের পর অন্যান্য দেশগুলোও এখন মালয়েশিয়ার পথ অনুসরণ করতে পারে।