মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখন আর কোনো রাখঢাক বা ছায়াযুদ্ধের পর্যায়ে নেই। ইরানের প্রভাবশালী নেতা আলী লারিজানিকে গুপ্তহত্যার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের গভীরে ঢুকে অন্তত ১০০টি স্থানে একযোগে হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় তেল আবিব, হাইফা এবং নেগেভ মরুভূমির বেশ কিছু সামরিক স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।
লারিজানি হত্যাকাণ্ড: যুদ্ধের নতুন মোড়
গত সপ্তাহে দামেস্কে এক বিমান হামলায় আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর ইরান ‘কঠোর প্রতিশোধের’ অঙ্গীকার করেছিল। তেহরানের দাবি ছিল, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মোসাদ এবং সিআইএ-র সরাসরি হাত রয়েছে। সোমবার রাতের এই হামলাকে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছে আইআরজিসি (IRGC)।
হামলার ভয়াবহতা ও লক্ষ্যবস্তু
ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) এবং আল জাজিরার তথ্যমতে, ইরান থেকে ছোড়া কয়েকশ ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও কামিকাজে ড্রোন ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ভেদ করে অন্তত ১০০টি স্থানে আঘাত হেনেছে।
নেভাতিম বিমান ঘাঁটি: ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান এই বিমান ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি বড় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যার ফলে রানওয়ে ও বেশ কিছু এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তেল আবিব ও হাইফা: বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবের উপকণ্ঠে সামরিক গোয়েন্দা দপ্তরের কাছে বড় বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।
জেরুজালেম: পবিত্র শহরের আকাশে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার আলোকচ্ছটা দেখা গেছে, যার ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কিছু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক পরিস্থিতি
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন। প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, হামলায় বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘরবাড়ি এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানায় অনেক এলাকা বর্তমানে অন্ধকারাচ্ছন্ন। যদিও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেনি, তবে উদ্ধারকারী দলগুলো সারা দেশে কাজ করছে।
ইরানের বিজয় উল্লাস ও হুঁশিয়ারি
হামলার পরপরই তেহরান ও ইরানের প্রধান শহরগুলোতে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নেমে বিজয় উল্লাস করতে দেখা গেছে। ইরানের সামরিক কমান্ডাররা সতর্ক করে বলেছেন, "যদি ইসরায়েল পাল্টা হামলার চেষ্টা করে, তবে পরবর্তী আঘাত হবে বর্তমানের চেয়ে দশ গুণ বেশি ভয়াবহ।"