ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে শবে কদর অত্যন্ত গুরুত্ববহ। পবিত্র কুরআনে এই রাতকে 'হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নবীজি (সা.) রমজানের শেষ দশকে এই রাতটি গুরুত্বের সাথে অনুসন্ধান করতে এবং ইবাদতে নিমগ্ন থাকতে বলেছেন।
১. রাত জেগে ইবাদত করা
নবীজি (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরের রাতে ইবাদতে দাঁড়িয়ে থাকে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।" (বুখারি ও মুসলিম)। তাই এই রাতে নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত এবং জিকিরে অতিবাহিত করা শ্রেষ্ঠ আমল।
২. শেষ দশ দিনে অনুসন্ধান
শবে কদর নির্দিষ্ট কোনো একটি রাতে হবে তা নিশ্চিত করা হয়নি। তবে নবীজি (সা.) নির্দেশনা দিয়েছেন: "তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।" অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাতে এই মহিমান্বিত রাত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
৩. বিশেষ দোয়া পাঠ
হযরত আয়েশা (রা.) নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞাসা করেছিলেন, "হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি জানতে পারি কোন রাতটি শবে কদর, তবে আমি কী পাঠ করব?" নবীজি (সা.) তাকে এই বিশেষ দোয়াটি শিখিয়েছিলেন:
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করাকে পছন্দ করেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করুন। (তিরমিজি)।
৪. পরিবারকে উৎসাহিত করা
রমজানের শেষ দশ দিন শুরু হলে নবীজি (সা.) নিজে সারা রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং তাঁর পরিবার-পরিজনকেও জাগিয়ে দিতেন। তিনি কোমরে কাপড় বেঁধে (তথা কঠোর সাধনার প্রস্তুতি নিয়ে) ইবাদতে মগ্ন হতেন।
৫. ইতিকাফ করা
শবে কদরের ফজিলত লাভের সবচেয়ে নিশ্চিত উপায় হলো ইতিকাফ। নবীজি (সা.) প্রতি বছর রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে ইতিকাফ করতেন যাতে কদরের রাতের কোনো অংশই ইবাদত থেকে বাদ না পড়ে।
সারকথা: শবে কদর আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য এক বিশাল উপহার। দুনিয়াবী ব্যস্ততা কমিয়ে এই রাতে বেশি বেশি তওবা, ইস্তিগফার এবং কান্নাকাটির মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করা আমাদের প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।