মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখন আর কেবল ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। যদিও দুই দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীই দাবি করেছে যে, অধিকাংশ আক্রমণ তারা আকাশেই রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে।
সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য
রবিবার (১৫ মার্চ) সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, শনিবার রাতে ইরান থেকে ছোড়া ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৪টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে জানানো হয়:
প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি: আল-খার্জ এলাকার আকাশে ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই ধ্বংস করা হয়েছে।
তেল শোধনাগার: পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের প্রধান তেল শোধনাগারগুলো লক্ষ্য করে আসা ড্রোনগুলোর বেশিরভাগই প্রতিরোধ করা হয়েছে। কিছু ড্রোন রিয়াদের জনবসতিপূর্ণ এলাকার আকাশে ধ্বংস করা হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরোধ ও হতাহত
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা শনিবার রাতভর ইরানের বড় ধরনের হুমকি মোকাবিলা করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী:
৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৩টি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে।
দুবাই মারিনা ও আল-সুফৌহ: এসব এলাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার সময় প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
ভয়াবহ পরিসংখ্যান: যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান এ পর্যন্ত মোট ২৯৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১,৬০০টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। এই অভিযানে এ পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
ইরান ও আমিরাতের মধ্যে নজিরবিহীন উত্তেজনা
এবারই প্রথম ইরান কোনো প্রতিবেশী দেশের অ-মার্কিন সম্পদের ওপর সরাসরি হুমকি দিয়েছে। দুবাই মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইরান আমিরাতের তিনটি প্রধান বন্দর খালি করার আলটিমেটাম দিয়েছে, যা আঞ্চলিক বাণিজ্যে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।