ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম তাঁর মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার বিতর্কিত এক কর্মকর্তাকে পদায়নের জন্য ডিও (আধা সরকারিপত্র) দিলেও তাতে সায় দিচ্ছে না জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ এবং একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে মো. মাহমুদ হাসান নামের ওই কর্মকর্তাকে নিয়ে সরকারের ভেতরেই তৈরি হয়েছে অস্বস্তি।
মন্ত্রীর সুপারিশ বনাম বাস্তব চিত্র
গত ২২ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জনপ্রশাসন সচিবকে দেওয়া চিঠিতে দাবি করেন, মাহমুদ হাসান একজন ‘পেশাদার, সৎ ও সাহসী’ কর্মকর্তা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি বঞ্চনার শিকার হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তবে জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে ভিন্ন কথা।
অতীতের ‘বিব্রতকর’ রেকর্ড
মাহমুদ হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা বেশ দীর্ঘ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়:
শারমিন মুরশিদের অভিযোগ: সাবেক উপদেষ্টা শারমিন মুরশিদের একান্ত সচিব (পিএস) থাকাকালীন মাহমুদ হাসানের বিরুদ্ধে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে। শারমিন মুরশিদ জানান, মাহমুদ হাসান তাঁকে দিয়ে সন্দেহজনক নথিতে সই করানোর চেষ্টা করতেন এবং তাঁর এপিএসকেও দুর্নীতির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও তাঁর অনিয়মের বিষয়টি উঠে এসেছিল।
প্রত্যাখ্যান করেছিলেন রিজওয়ানা হাসানও: সমাজকল্যাণ থেকে সরিয়ে মাহমুদ হাসানকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হলে তৎকালীন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তাঁকে নিতে অস্বীকৃতি জানান।
পিডিবিএফ-এ নিয়োগ বাণিজ্য: পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনে (পিডিবিএফ) থাকাকালীন মাহমুদ হাসানের বিরুদ্ধে নিয়োগ-বাণিজ্য, গাড়ি ও ভবন কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ বর্তমানে এসব অভিযোগের তদন্ত করছে।
জনপ্রশাসনের অনড় অবস্থান
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মন্ত্রীর সুপারিশ থাকলেও মাহমুদ হাসানের ট্র্যাক রেকর্ড এবং চলমান তদন্তের কারণে তাঁকে সংবেদনশীল কোনো পদে পদায়ন করা সম্ভব নয়। প্রায় দেড় মাস আগে ডিও দেওয়া হলেও এ কারণেই তাঁকে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে আনা হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার
বর্তমানে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত মাহমুদ হাসান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি স্বেচ্ছায় উপদেষ্টার পিএস পদ ছেড়েছিলেন এবং পিডিবিএফ-এ সিন্ডিকেটের নিয়োগ-বাণিজ্যে বাধা দেওয়ায় তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।
তদন্তাধীন এবং বিতর্কিত একজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনার এই প্রচেষ্টা সচিবালয়ে সাধারণ কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।